আবার জীবনের চৌমাথায়
দিনই ভারতের শাসন যন্ত্রের চাকাটি ছেড়ে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হ’বে যে দিন আমরা উপযুক্ত হবো, মানুষ হবো। একথাটা যতই অপ্রিয় হোক খুবই সত্য, এই মূল সত্যটাকে ভুলে এটার দিকে চক্ষু মুদে আমরা এত দিন অসহযোগ, বোমা, কারাবরণ ইত্যাদি যা কিছু করতে গিয়েছি, সবই একটা হাস্যকর প্রহসনে দাঁড়িয়েছে। আমাদের গত ত্রিশ বছরের রাজনীতিক আন্দোলনের যতগুলি ঢেউ বা phases এসেছে তার ব্যর্থতাও যেমন ঘটেছে, কিছু কিছু সুফলও ফলেছে, এই সব আন্দোলনের ফলে দেশময় জাতির রাজনীতিক চেতনা জেগেছে। কিন্তু যখন রোম নগরী পুড়ে ছারখার হচ্ছে তখন সঙ্গীত চর্চ্চা যেমন বাতুলতা, তেমনি সাড়ে তেত্রিশ কোটী ক্ষুধিত নিরন্ন অজ্ঞ রুগ্ন ভারতবাসীর জীবন নিয়ে এক আধ লক্ষ শিক্ষিতের ব্যর্থ ভাববিলাস কি তেমনি বাতুলতা নয়? বার বার ভূল পথে জাতির ভাগ্য নিয়ে ব্যর্থ পরীক্ষার কি আর সময় আছে?
আবার জীবনের চৌমাথায়
১৯০৬ সালের স্বদেশী ও জাতীয় শিক্ষার আন্দোলন মরেছে, ১৯১২ সালের অসহযোগ ব্যর্থ হয়েছে, ১৯০৯ সালের বোমাও আমাদের স্বরাজ দিতে সমর্থ হয় নি। প্রত্যেক রাজনীতিক আদর্শ বা উপায়ের একটা সুসময় আজে, পরমায়ু কাল আছে; তা যথা সময়ে জন্মায়, বাড়ে এবং কাজ করে ফুরিয়ে যায়। রাজনীতিতে যে উপার একবার spent bullet হয়ে গেছে তা’র জের কেটে চলে তারাই যাদের মোটা কার্য্যকরী বুদ্ধির —Sense of realityর নিতান্ত অভাব। আজ তাই আবার আমরা জীবনের চৌমাথার এসে পৌঁছেছি।— “India is on the cross-road of her destiny”—আবার আমাদের নতুন করে পথ
১৩