বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

এই গুণ্ডামীর ও কসাইবৃত্তির প্রশংসায় চিরদিনই পঞ্চমুখ। অথচ দৈবী-বীরত্ব, আর্ত্তত্রাণের শৌর্য্য এ পৈশাচিকতা নয়; এ বীরত্ব ও মিলিটারিজম্, এই বর্ব্বর অসভ্যের আচরণ এতদিন সভ্যতার চিহ্ন বলে পূজা পেয়ে এসেছে। পরাধীন জাতি মুক্তির নামে দেশপ্রীতির নামে নর-রক্তে দেশ ভাসিয়ে এতদিন স্বাধীন হয়েছে,পূজা পেয়েছে; সে দিনও কিন্তু আর নাই। জিঘাংসা ও ক্রুরতার অন্ধ ঝটিকা তুলে জাতির বিরুদ্ধে জাতিকে ক্ষিপ্ত করে জগত আর চলতে পারবে না। মানুষ উঠেছে সভ্যতার ও মানবতার উচ্চতর পৈঁঠায়, তাই এ যুগের মহাত্মা গান্ধী ভারতে এনেছেন অহিংস অভিযানের বাণী। আজ জাতিতে জাতিতে আমরা আর বিচ্ছিন্ন ও পর নই, বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব্ব উন্নতি ছয় মাসের পথকে ছয় দিনে পরিণত করেছে। আজ সমগ্র মানব পরিবার হয়েছে পরস্পরের পাশের ঘরের প্রতিবাসী, আজ মার্কিনকে না হলে ফরাসীর চলে না, চীনকে না হলে মার্কিনের ব্যবসার লক্ষ্মী অচল হয়। এক অখণ্ড মানবতার জন্ম আজ সন্নিহিত, তাই মানুষে মানুষে এত প্রেম, এত সমবেদনা। যখন অসি হস্তে মুসলমানের মুণ্ড কেটে শিবাজী হিন্দু রাষ্ট্র গড়ছিলেন তখন মানুষ সাম্প্রদায়িক জাতীয়তার কথাই ভাবতে পারতো, এ বিপুল মৈত্রীর স্বপ্ন দেখবারও মহাপ্রাণতা তার ছিল না। এখন দিন এসেছে যখন সঙ্কীর্ণ জাতীয়তা নয় কিন্তু এই মৈত্রী ও বিশ্বজনীনতার জন্য মানুষ জীবন দেবে, বীরত্বের স্বর্ণমুকুট অর্জন করবে।

 জগতের গুরুর আসন যার, সেই গীতা ও উপনিষদের জন্মদাতা ভারত কি এই দরদ ও সমবেদনার যুগে সঙ্কীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার নামে জাতিবিদ্বেষের নামে ভাইএর অস্থিকঙ্কালের ওপর মায়ের সিংহাসন পাতবে? ভারতের মুক্তির সংগ্রাম কি তবে নরমেধ যজ্ঞ? এর উত্তরে হয়ত বলা হবে, বিজেতার হাতে অসি ও আগ্নেরাস্ত্র, তবে আমরাই কি

১৬