বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

খাঁটি সহযোগিতা কোথায়?

শুধু ব্যর্থ প্রেমের মন্ত্র আওড়াব? এর জবাবে আমি বলবো, ওরা বিজেতা নয়, ওরা দেবতার আশীর্ব্বাদরূপে ভারতে এসেছিল শত্রুর মুখোস পরে, ওদের স্পর্শে তোমরা বেঁচে উঠেছ। শক হুন মোগল পাঠানের স্পর্শে তোমরা নিছক গোলাম হয়েছিলে—এত বড় জ্ঞান বিজ্ঞান সাহিত্য কলা গণতন্ত্রের বাহন তারা ছিল না। প্রবল বন্যা এসে দেশ ভাসিয়ে যেমন পলি মাটি দিয়ে জমিকে ঊর্ব্বর করে দিয়ে যায় এরা করেছে তাই। এদের অজ্ঞান ও সজ্ঞানক্বত মৈত্রী এমন কি এদের বৈরিতাও আমাদের মানুষ করেছে, জাগিয়েছে। মুক্ত গরিমাময় ভারতের ভাবী ঐতিহাসিক ঐ শ্বেত-দ্বীপের কাছে এ ঋণ এক দিন মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করবে! এ জাতি পররাষ্ট্রগ্রাসী হলেও অসভ্য নয়, এশিয়া গ্রাসোদত লুব্ধ জাপানী ড্রাগন নয়; এরা সভ্য, প্রাণবান, মুক্তির পূজক। বৈধ অহিংস পথে দৈবী শৌর্য্যে এদের জয় করা যায়; শত্রুর মুখোস এদের এরই মধ্যে খসে গেছে, এখন দিন এসেছে এই অপূর্ব্ব কর্ম্মকুশলী রাজস-সাত্ত্বিক জাতির সাহায্যে ও সাহচর্য্যে এই পতিত দেশকে গড়ে তোলার।

খাঁটি সহযোগিতা কি?

 “সহযোগ” এই কথাটীর আমরা অনেক নিন্দাই শুনেছি, তাকে ভিক্ষাবৃত্তি বলে গালি দিয়েছি। সহযোগ কিন্তু ভিক্ষা নয়, মহারাষ্ট্র কেশরী তিলক তা’ হ’লে responsive co-operationএর সে মন্ত্র উচ্চারণ করতেন না। মুক্তির অধীর আবেগে আমরা মত্ত হয়ে সুরেন্দ্র নাথের মডারেট মনোবৃত্তির পরই নিছক ধ্বংসের পথে পা বাড়িয়েছিলাম, অসহযোগের ধ্বজা তুলে কারাবরণ করেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম “সহযোগ” বুঝি করা হয়ে গেছে, ব্যর্থ সে পন্থার পুনরাবৃত্তিতে কাজ নাই।

১৭