বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

সে সময়ে অরবিন্দ যদি নির্বাসনে না যেতেন, মহারাষ্ট্র কেশরী তিলক যদি অকালে মৃত্যুমুখে না পড়তেন, তা’ হ’লে জাতির এ ভ্রান্তি হয়তো সহজেই কাটতো। রাজ্য শাসনে ও রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা কি শুধু চাওয়া, “দাও দাও” বলে ভিক্ষা করা? সত্যকার সহযোগিতা কি আমরা করেছি? সহযোগিতার পথ; প্রেমের পথ, কঠিন পথ বলেই না আমরা ছুটে গেছিলাম বাঁকা পথে, প্রতিহিংসার পথে, গুপ্ত ঘাতকের পথে, ছুরিকা ও আগ্নেরান্ত্রের পথে। সব বড় কাজই তো কঠিন, তাই বলে কি নরকের সহজ অনায়াস পথেই মানুষ তার মনুষ্যত্বের অপলাপ করবে? আর সে পথও তো কাণাগলিতে—ব্যর্থতায় পর্য্যবসিত হলো, এমন সোজা shortcut হয়ে গেল চোরা বালির গহন মৃত্যুর ফাঁদ। জাতির মুক্তি তা’তে এলো কই?

 সত্যকার সহযোগিতার পথ হচ্ছে জাতির আত্মস্থ হবার পথ, গঠনের পথ, মনুষ্যত্ব অর্জ্জনের পথ, স্বায়ত্ত শাসনের অধিকার তিলে তিলে অর্জ্জন করবার পথ; জাতির শিক্ষা দীক্ষা অন্ন বস্ত্র স্বাস্থ্য সম্পদের ভার নেবার পথ। এ পথ ধরবার ধৈর্য্য ও একপ্রাণতা আমাদের কই? আমরা কেবলি নালিশ জানিয়েছি, যে, দেড় দুই শত বৎসরের বৃটীশ শাসনের ফলে দেশের অশিক্ষা দারিদ্র ঋণভার শুধু বেড়েছে বই কমে নাই। তার অর্থ এই যে, আমরা চেয়েছি অপরে আমাদের শিক্ষা দেবে, মানুষ করবে, আমাদের ঘর সংসার গুছাবে, আর নিছক পরোপকার করতে সাত সমুদ্র পার হয়ে এদেশে এসে ইংরাজ যেন শুধু ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবে; এ আবদার অলস তামসিক অসহিষ্ণু নাবালক জাতিরই সাজে। আমরা নিজেরা নিজের দেশের শিক্ষার জন্য কতটুকু করেছি, দরিদ্র চাষীর ঋণভার কমাতে আমাদের পলিটিক্যাল স্বরাজ-লুব্ধ কংগ্রেস কতটুকু খেটেছে? তারা শুধু মান

১৮