বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

খাঁটি সহযোগিতা কোথায়?

অভিমানের অভিনয় করেছে, সহজ-লভ্য স্বরাজের বায়না ধরেছে, ব্যর্থ স্বার্থত্যাগের মহড়া দিয়েছে, দেশ জুড়ে অলস কর্ম্মবিমুখ ভলণ্টিয়ার গড়েছে, —সভাসমিতি মিছিল ভূয়া রাজনীতিক তামাসা আন্দোলনই যাদের হয়েছে পেশা।

 কথাগুলি বড় অপ্রিয় হচ্ছে কিন্তু আমাদের আজ কঠিন অপ্রিয় সত্যই বলবার ও শোনবার দিন এসেছে। সহযোগ আমরা করি নাই, করে দেখি নাই, যে, ও-পথে সিন্ধি আছে কি না। বামন মাত্র ত্রিপাদ ভূমিটুকু চেয়েছিল, সমর্থের মহাবীরের সে ভিক্ষার ফল কি হয়েছিল আমরা জানি। আমরা সে সামর্থ্য রাখি না, আমরা জানি শুধু নাকে কাঁদুনী, শুধু পোষাকী পলিটিক্স, শুধু নিরাশার সহজ বুলি। মণ্টেগু রিফর্ম খারাপ, ডায়ার্কি খারাপ, এখন আবার নূতন কনষ্টিটিউশন খারাপ; ভাল শুধু পরের দেওয়া স্বরাজ—ফাঁকা এজিটেশনে লভ্য স্বরাজ। ঐ ভিক্ষা-লভ্য এজিটেশনের ফল ত্রিপাদ ভূমি—ঐ আধা-স্বরাজ সিকি-স্বরাজ মেকী কন্ষ্টিটিউশনকে একবার নিয়ে কাজ করে দেখেছি কি ও-পথে এগোনো সম্ভব কিনা? সত্যকার সহযোগ, কাউন্সিলের মিউনিসিপালিটির ডিষ্ট্রীক্ট বোর্ডের ভিতরে বাহিরে দেশব্যাপী শিক্ষার আয়োজন, কষি শিল্পের উন্নতির চেষ্ট, পল্লী গঠনের অসাধ্য-সাধন আমরা করে দেখি নি, আজ তাই অকপট কর্ম্মী মহাত্মাজীর মুখ ভূয়া রাজনীতির দিক থেকে ফিরে গেছে কলুর ঘানীর দিকে, ম্যালেরিয়া জীর্ণের ঢেঁকিশালের দিকে, কামারের হাঁতুড়ীর দিকে, পল্লীর পচা পানাপুকুরের দিকে, নিরন্নের জীর্ণ পাঁজরের দিকে। তাদের পানা পুকুরের পঙ্কোদ্ধার করতে, তাদের জীর্ণ বুকে সাহস দিতে, মাথার ঋণভার লাঘব করতে, তাদের ধর্ম্মের নামে সমাজের নামে অবহেলিত মূক মনে শিক্ষার আলো জ্বালতে শাসন চক্র ছাড়া আর কেউ পারবে না। ঐ গভর্ণমেণ্ট দেশের রক্তে

১৯