বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

দেশের ধনজন-বলে গড়া মায়ের শক্তিপীঠ, বিদেশী নয়, তোমার নিছক শত্রু নয়। যদি সে রাজ শক্তি এত দিন জাতির কল্যাণ সাধনে বিমুখ ছিল সে পাপ তোমার; তুমি উদাসীন ছিলে বলে তোমার দেশের গভর্ণমেণ্ট ছিল মৃতের, শক্তিহীনের, সঙ্কীর্ণ স্বার্থপরের স্বার্থপর গভর্ণমেণ্ট।

 আবার বলি আজ আর ভীম সেনের গদামার্কা শৌর্য্যের ভারত নাই, আজ আর টডের রাজস্থানের ভারত ও শিবাজীর মাওলীসেনার ভারত নাই, আজ রাজসূয় যজ্ঞের ঘোড়ার পিছনে ছুটতে ছুটতে রক্তের ধারায় দেশ ভাসাতে গেলে তা প্রহসনে দাঁড়াবে, আধুনিক সভ্য জগতে তা’ পাগলের পাগলামীর মত দেখাবে। তৈমুর, বাবর বা ভাস্কর পণ্ডিতের অসির ঘায়ে সাম্রাজ্য বিস্তার আজ হয়েছে সিনেমার সং, থিয়েটারের মঞ্চের আস্ফালন। মুসোলিনী বা জাপানী বুসিডোর রক্তের জয়যাত্রা আজ সভ্য জগতের হাততালি পায় না, ঘৃণ্য লুণ্ঠকের বেশে ধরা পড়ে যায়।

 তোমরা বলবে হিংসার পথের মত অহিংসাও তো ব্যর্থ হয়েছে। কথাটা সত্য নয়, কারণ অহিংসা একটা ধর্ম্ম, যুগব্রত, ওর জয়যাত্রাই নানা ভাবে আধুনিক জগতে চলেছে, একটা আন্দোলনের ব্যর্থতায় অত বড় সত্য ব্যর্থ হতে পারে না। আমরা একটা সঙ্কীর্ণ জাতি-বিদ্বেষের ক্ষেত্রে বপন করেছিলাম অহিংসার বীজ, বুকে ছিল আমাদের ইংরাজ বিদ্বেষ, মুসলমান বিদ্বেষ, হিন্দু বিদ্বেষ, বর্ণ বিদ্বেষ, অস্পৃশ্যতার পাপ, নারীদ্রোহের পাপ, ব্যক্তিগত স্বার্থের কামনা, আর ফাঁকী দিয়ে স্বরাজ নেবার লোভে আমরা পরেছিলাম অহিংসার মুকুট, সত্যাগ্রহীর বেশ। তাই আমাদের অহিংস অসহোযোগে দেশ জুড়ে জেগে উঠেছে—সাম্প্রদায়িকতার নামে, স্পৃশ্যাপৃশ্যের নামে—পরস্পরে অসহযোগ, সংগ্রাম, হানাহানি, শ্রেণী-বিদ্বেষ, জাতি-বিদ্বেষ, ধর্ম্ম-বিদ্বেষ। মাঝখানে

২০