ভারত কোন্ পথে?
করা চলবে না, ইন্ধন দিয়ে একে পুষ্ট করে মিত্রে পরিণত করতে হবে; ভারত থেকে ক্রমশঃ বিজেতার হিসাবে বিদায়কামী তারা আমাদের নবীন গঠনের সহায় এখন সহজেই হবে। নূতন কোন বিজেতা তা’ হবে না,কারণ তার উদগ্র লোভ মিটে নাই, এ জাতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় এমন করে তার হয় নাই। ভারত ও ব্রিটেন দুই দেশের মিলন যখন বিধির বিধানে হয়েছে তখন ব্রিটেনকেই করতে হবে আমাদের গঠনের মন্ত্রগুরু। আজ যদি এরা অকালে চলে যায় তা’ হলে এতগুলি বিভিন্ন জাতি, ধর্ম্ম, শ্রেণী ও বর্ণের অরণ্য এই দেশে চলবে রক্তারক্তি, হানাহানি, গৃহ-বিচ্ছেদ; তার চিহ্ন সর্ব্বত্র এখনই সুস্পষ্ট দেদীপ্যমান। আমরা সংহতি শিখি নাই, পরস্পরে সমবেদনা অনুভব করি নাই, ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলি নাই। এখনও স্বদেশীর নামে মাড়োয়াড়, গুজরাট, বোম্বাই, পাঞ্জাব করে বাঙলাকে নির্ম্মম শোষণ। আমরা মানুষ হয়েছি বলে চিৎকার করলে কি হবে, জাতিগঠনের উপযোগী সংহতি শক্তি আমাদের এখনও জাগে নাই। রাজ পাট, রাজ্যশাসন, প্রজা পালনের ভার আমরা বহু দিন বহি নাই, দশের কল্যাণে প্রতি মুহূর্ত্তে নিজেকে নিয়োজিত রাখার অভ্যাস সবে আয়ত্ত করছি। বাহিরের নূতন শত্রুকে অন্তর কলহের অবসরে ঢুকবার সুবিধা দেওয়ার চেয়ে আমাদের উচিৎ এই বুদ্ধি-জীবী হিসাবী উন্নত ব্রিটিশ জাতিকেই অল্পে অল্পে মিত্রে ও সহকর্ম্মীতে পরিণত করে নিয়ে দুই শক্তি মিলে ভাবী ভারত গড়ে তোলা।
ইংরাজ এবং ভারতবাসী এই দুই জাতিকেই বুঝতে হবে, যে, সহযোগেই উভয়ের শক্তি ও কল্যাণ, অসহযোগে ও সংঘর্ষে দুই দেশেরই নিরন্ন প্রজা সাধারণের দুঃখ, পুঞ্জীভূত বেদনা ও অভাবের অনিবার্য্য বৃদ্ধি। নেতায় নেতায়, শাসকে ও শিক্ষিত সম্প্রদায়ে কুট রাজনীতিক বুদ্ধি নিয়ে করে লড়াই বাকবিতণ্ডা কলহ, আর তার ফলে মরে এবং উৎপন্ন হয়ে যায়
২২