যুগ-দেবতার সঙ্কেত
দুঃখী জনসাধারণ,—হাতিতে হাতিতে লড়াই হয় আর নলখাগড়ার প্রাণ যায়। অধিকন্তু মানুষকে ধরেই যখন মানুষকে বাঁচতে হবে, চলতে হবে, তখন বিরোধের পর শান্তি ও আপোষ অনিবার্য্য তখন সহজে আশুফলপ্রদ পথ ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ। কল্যাণের সহজ পথ হচ্ছে প্রীতি, সহযোগিতা পরস্পরের স্বার্থের সামঞ্জস্য বিধান; আর তার ঘুর-পথ বাঁকা পথ হচ্ছে হিংসা, নিষ্ঠুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংঙ্কীর্ণ স্বার্থের হানাহানি ও প্রতিযোগিতা। এই বাঁকা পথে গেলে বহু অর্থ শক্তি ও সময়ের অপব্যয় করে আবার মানুষকে ফিরে আসতে হয় মিলনে, স্বার্থের ভাগ বাঁটোয়ারায়, সামঞ্জস্যে। যদি হিংসামূলক অসহযোগ পাপ না হয়, তা’ হ’লে সহযোগিতা পাপ হবে কেন? যীশু বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ যে প্রেম, মৈত্রী ও করুণার বাণী প্রচার করে গেছেন, অর্দ্ধেক পৃথিবী যার মৌখিক ভক্ত ও অনুরাগী, সে প্রেম মৈত্রী কি ব্যক্তির জীবনেই আবদ্ধ হয়ে থাকবে, জাতির জীবনে—মহামানবের সমগ্র জীবনে কখনও ফুটবে না? আমরা কি প্রতিবাসীর ঘরে সিঁদ কাটাকে পাপ বলে পরিহার করে বণিকের বেশে তার ধন শোষণ করতে বাহির হব? ল্যাঙ্কেশায়ারকে আমরা গালি দিই, স্বদেশীর নামে গুজরাটী ও মাড়োয়াড়ীর ল্যাঙ্কেশায়ার বাঙালীর অর্থ শোষণ কি তেমনি ভাবে করছে না? অহিংসার প্রতীক বৌদ্ধ জাপান সস্তা মালে বাজার ছেয়ে ফেলে কি ভারতের শিশু-শিল্পের কণ্ঠরোধ করছে না? তাই বলছিলাম প্রেম মৈত্রী সততা ইত্যাদি ধর্ম্মকে আমরা ব্যক্তিগত জীবনেই আচরণ করবো বলে তুলে রাখি এবং যথাসাধ্য তা’ করিও। কিন্তু এই সব মহান সত্যকে ব্যাপক জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় জীবনে কার্য্যকরী করে তোলবার দিন এসেছে।
ইংলণ্ডের প্রকৃতিই হচ্ছে’—অন্য জাতি যা’ হানাহানি রক্তপাত ও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে করে ইংলণ্ড তা ধীর মস্তিষ্কে বিচার করে অল্পে অল্পে
২৩