ব্রিটেন ভারতের কি করেছে?
কথাটা এক দিক দিয়ে সত্য হতে পারে। এমনি করেই এক সাম্রাজ্যের পতনের ফলে অন্য সাম্রাজ্য গড়ে থাকে, নদীর এক কূল ভেঙ্গে অন্য কূল জেগে ওঠে। কিন্তু রাগ ও বিদ্বেষের দৃষ্টিতে ইতিহাস পাঠ করলে মানব জাতির উত্থান পতনের মূল সত্য ধরা যায় না। সাগরের গভীর বুকে যেমন গুপ্ত সব স্রোত ধারা চলে, জাতির জীবন সাগরে তেমনি চলে কখন দৃশ্য কখনও বা অদৃশ্য বিপুল সব শক্তির ধারা—যা’ দেশের, জাতির ও নূতন নূতন কৃষ্টির জন্ম এবং পুষ্টির কারণ হয়।
অষ্টাদশ শতাব্দির প্রারম্ভে যখন যুগ-দেবতার গোপন হস্ত ইংলণ্ড, ফরাসী, স্পেন ও জার্ম্মাণী আদি জাতিকে নূতন করে জগৎ-গঠনের শানিত অস্ত্ররূপে গড়ছিল, তখন এসিয়া নিগ্রো-আফ্রিকা ও রেড ইণ্ডিয়ান আমেরিকা অসভ্যতার ও অন্ধ কুসংস্কারের গাঢ় তমিশ্রায় ডুবে গেছে। তখন য়ুরোপ ছিল তরুণ, সবল, জীবন্ত ও প্রাণবান। অর্থ, সম্পদ ও ভোগোপকরণের আছে এক স্বাভাবিক জীবন-মুখী গতি; মানবজাতির যে অংশ যখন থাকে সক্রিয় ও সিসৃক্ষু, লক্ষ্মী তখন চলেন সেই দিকে। ধনৈশ্বর্য্যের দেবী লক্ষ্মীকে কখন তামসিক জড়কে আশ্রয় করতে দেখেছ কি? শ্রীচলে জীবনেরই সঙ্গে, তাই চিরদিনই বীরভোগ্যা বসুন্ধরা। যখন এসিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকায় ছিল অন্ধকারের যুগ, অবসাদ ও গতানুগতিকতার যুগ, তখন য়ুরোপ ও ইংলণ্ড যে সজীব ছিল তার নিশ্চিত লক্ষণ হচ্ছে তাদের সমৃদ্ধ হবার ও উন্নত হবার প্রয়াস— পৃথিবীর চতুর্দ্দিকে ছড়িয়ে পড়ে ধন সম্পদ আহরণ করে সভ্যতা কলা সাহিত্য সাম্রাজ্য সৃষ্টি করবার তাদের অদম্য প্রাণ শক্তি ও প্রেরণা। সে অগ্নিময় প্রাণধারাকে কে রুদ্ধ করে রাখতে পারে?
যদি সঞ্চিত ঐশ্বর্য্য ও অতীত গরিমাই জাতিকে বড় করতে পারতো তা’ হলে আমাদের স্বর্ণপ্রসূ দেশে প্রায় অক্ষয় কুবের-সম্পদ তো ছিলই,
২৯