বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ব্রিটেন ভারতের কি করেছে?

যা’ সব চেয়ে বেশী কর্ষিত হয়, ওলটপালট করা হয়। মাটির মত জাতিরও উৎপাদিকা শক্তি বাড়ে যতই তাকে গভীর করে খনন করা— লাঙ্গল দেওয়া যায়, যতই তাকে ওলট পালট করে খুঁড়ে বিশ্রাম দেওয়া যায়, যাকে ইংরাজিতে বলে made to lie fallow। ইতিহাসের পাতায় পাতায় আমরা যদি ধীর চিত্তে মন দিয়ে খুঁজি, আমার বিশ্বাস প্রত্যেক নূতন সভ্যতা ও কৃষ্টির জন্মের পূর্ব্বে সে জাতির জীবনে এমনি একটা অজম্মায় ফেলে রাখার—বিশ্রামের—সংগোপনে অন্তর্পুষ্টির কাল খুঁজে পাব। ভারতে গত দুই শ’ বছরের ব্রিটিশ অধিকারের আমরা অভিযোগ করি, কিন্তু আজকার পরাক্রান্ত অর্দ্ধ পৃথিবীবিজয়ী এই ক্ষুদ্র দ্বীপ ইংলণ্ডের অতীতে সেই বহু শতাব্দিব্যাপী ভীষণ অগ্নি—পরীক্ষার কথা একবার ভেবে দেখ। এ জাতি চিরদিন এমন সুখগৌরবের উচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত ছিল না। বহিরাক্রমণ, লুণ্ঠন, কেণ্টিক ও টিউটনিক জাতির অধীনে দীর্ঘ ও নিষ্ঠুর দলন ও পরাধীনতা, রোমান অভিযান ও বিজয়, স্যাক্সন জলদস্যগণের দ্বারা খৃষ্ট জন্মের ৩০০ খৃষ্টাব্দ পর থেকে ৬০০ খৃষ্টাব্দ অবধি নিষ্ঠুর নিদারুণ অত্যাচার, একাদশ খৃষ্টাব্দ অবধি নর্ডিক জাতিদের অভিযানের পর অভিযান—দীর্ঘ সতর শতাব্দি ধরে ইংলণ্ডের ভাগ্যে এই অগ্নি-পরীক্ষা অল্প বিস্তর চলেছিল। দুর্দ্ধর্ষ বিজেতাদের সঙ্গে এই সংমিশ্রণ—বহু প্রাণধারা ও কৃষ্টির এই সমন্বয়ই বর্ত্তমান ইংরাজ জাতিকে দিয়েছে তাদের গুণভূয়িষ্ট, দৃঢ়, প্রতিভাদীপ্ত প্রকৃতি। এই দীর্ঘ সতর শ’ বছরের বিশ্রাম ইংরাজ জাতিকে দিয়েছিল প্রচুর অবসর—তাদের উগ্র শক্তিশালী বিজেতাদিগের রক্ত বংশধারা ও প্রকৃতি থেকে জাতি— গঠনের সার ও উপকরণ সংগ্রহ করে তা’ আত্মসাৎ করে নিতে। যে সব প্রাণবান জাতির আছে মানবের ক্রমবিকাশে দিবার কিছু অবদান সে জাতি এইরূপ শত শত অগ্নিপরীক্ষায়ও মরে না, দুঃখ বেদনা বন্ধন পরাজয় তাদের দেয় আরও

৩১