ভারত কোন্ পথে?
উপচিত ও বর্দ্ধিত প্রাণশক্তি। কিন্তু যাদের মহামানবের ক্রম-পরিণতিতে দিবার কোন দানই নাই তারা প্রবলতর বিজেতার দ্বারা কবলিত ও নিঃশেষিত হয়ে গিয়ে তাদের রক্তে মাংসে মেধায় মনীষায় সঞ্চারিত হয়ে সেই প্রবলতর জাতিরই করে তেজ ও শক্তির বৃদ্ধি এবং পুষ্টি।
মানব জাতি-পরিবারের শরীরে কোন অপচয়, ব্যাধি বা আংশিক ক্ষয় স্থায়ী হতে পারে না। তার একাঙ্গ কোন কারণে রুগ্ন বা পক্ষাঘাতে অবসন্ন হলে সমস্ত মানবজাতি শরীরে চলে তারই দিকে প্রতিক্রিয়া— সেই অঙ্গে জীবন আনবার জন্য, সেই ক্ষীণ অংশে রুধির সঞ্চারিত করবার জন্য। লুণ্ঠন, আক্রমণ, অভিযান এই সব রূপ ধরে আসে ঐ প্রতিক্রিয়া। মানব জাতির কোন অঙ্গকেই হীনবল হতে বা নষ্ট হতে দেওয়া প্রকৃতির অপূর্ব্ব মিতব্যয়িতায় নাই। মুমূর্ষু অংশকে পুনরুজ্জীবিত করতে চারিদিক থেকে সেখানে প্রবাহিত হয় জীবনদায়ী নূতন প্রাণধারা, সৃষ্টির নব নব বীজ মন্ত্র ও ভাবরাশি। এর ফলে হয় সেই মৃত অংশ বেঁচে ওঠে, আর না হয়তো অন্য সজীব জাতি এসে সেই মুমূর্ষু শাখার রসে পুষ্ট হয়ে তাকে আত্মদেহে আত্মসাৎ করে নিয়ে সমগ্র মহামানব শরীরকে করে জীবন্ত পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁৎ।
ভারতের জীবনে এই পতন, সপ্ত শতাব্দী ব্যাপী এই বিরাম আজ দীর্ঘ দেখাচ্ছে। কিন্তু নিরাশ হবার কোন কারণ নাই, যেহেতু প্রকৃতিতে আশু নিরাময়তার কোন সহজ পথ্য ও ঔষধ দুর্ল্লভ। প্রকৃতি গড়ে সব কিছুই পরম ধৈর্য্যে, স্থায়ী এবং অটুট করে। শক হুন গ্রীক অভিযানের সময় ভারত যে রকম করে বিজেতাকে আত্মসাৎ করে নিয়েছিল, জাতিভেদ-দুষ্ট পরবর্ত্তী গোঁড়া ভারত সে রকম রক্তের অবাধ মিশ্রণ রোধ করে রাখলেও কৃষ্টির মিশ্রণ ও আদান প্রদান ঠেকাতে পারে নাই। আজ বনে পর্ব্বতে ও সুদূর গ্রামে ছাড়া সর্ব্বত্রই শিক্ষিত নাগরীক ভারত অতীত থেকে
৩২