ব্রিটেন ভারতের কি করেছে?
এক রকম নিশ্চিহ্ন হয়েই নবরূপ নিয়েছে—বিশেষতঃ পাশ্চাত্যের তরঙ্গাভিঘাতে। পাশ্চাত্যের বস্তুতন্ত্র বুদ্ধি এসে মিলেছে ভারতের মনীষায়, ধ্যানে ও ঋষি-প্রতিভায়। রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, গান্ধী, শ্রীঅরবিন্দ হচ্ছেন য়ুরোপ ও এসিয়ার এই অপূর্ব্ব কৃষ্টি-পরিণয়ের সন্তান।
ব্রিটিশ জাতি ভারতের নিয়ামক ও কর্ণধার হয়ে তত দিন থাকবেই যত দিন ভারতের গঠনে আছে তাদের আবশ্যকতা। এই মুমূর্ষু জাতিকে তাদের প্রাণের তড়িৎ-প্রবাহে জাগাতে যুগদেবতা এনেছেন এই রাজসিক ব্রিটিশ জাতিকে, পাশ্চাত্যের জ্ঞান বিজ্ঞান ও তাদের প্রাণদায়ী সংস্পর্শ-ই এদেশে এনেছে অখণ্ড জাতীয়তা বোধ ও নূতন কর্ম্মপ্রেরণা। এসিয়া তার চিরাচরিত অভ্যাস ও আচারের বাঁধা পথ ছেড়ে, তামস জড়তা থেকে রাহুমুক্ত হয়ে পুরাতনের মোহ থেকে মুখ ফেরাতে শিখেছে রহস্য-গূঢ় অজ্ঞাত ঐ ভবিষ্যতের উদয়াচলের দিকে। কিন্তু ভারতের পুণরুজ্জীবন এখনও সম্পূর্ণ হয় নাই। ভারতের তন্দ্রা ছুটেছে বটে কিন্তু সহসা-জাগ্রতের আবিল তন্দ্রালস মন নিয়ে সে এখনও হাতড়াচ্ছে,জাগ্রতের সরল মন ও স্বচ্ছ দৃষ্টি ফিরে পায় নাই। এখনও সে শত্রু মিত্র চেনে না, সে যাকে দেখে একটা অজানিত আতঙ্কে তাকেই শত্রুজ্ঞানে আঘাত করতে চায়। আজ সে ইংরাজকে ভাবছে শত্রু,কাল মুসলমানকে, পরক্ষণেই আবার তাদের অভিজাত বংশকে—দেশের শিল্প বাণিজ্যের নির্ম্মাতাকে ঠাওরাচ্ছে দেশের দুর্গতির মূল কারণ বলে। বহু ভাষায় আধ আধ জড়িত কণ্ঠে নবজাগ্রত তন্দ্রালস ভারত তার সাধ আশঙ্কাকে দিচ্ছে বাণী। তাই বলি এখনও ভারত তার জাগ্রতের গোটা মনটি ফিরে পায় নাই।
আমাদের এত দিনের এই বিশৃঙ্খল আন্দোলন, আবেগ ও অসহিষ্ণু ভাবাতিশষ্য সত্ত্বেও ভারত সেই জাতীয় একতা গড়ে তুলতে পারে নাই যা’ ব্যতীরেকে তার স্বাতন্ত্র্য সম্ভব নয়। এমন কি যাকে আমরা গোল
৩৩