বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

টেবিলের আধা-স্বরাজ বলে গালি দিই তারও লোভ আমাদের মাঝে নারীসুলভ গৃহকলহের সৃষ্টি করছে। বৈঠকের পর বৈঠক, কন্ফারেন্সের পর কন্ফারেন্স একটুখানি কার্য্যকরী একতাও আনতে পারে নাই। কংগ্রেস ও মহাত্মাজীর সমবেত চেষ্টাও জগৎতে দেখাতে অসমর্থ হ’লো, যে, ভারত তার দলগত ও সম্প্রদায়গত হীন স্বার্থ ছেড়ে মুখ্যতঃ স্বরাজ চায়। আমাদের মধ্যে কোথায় সে একতা, সে দরদ ও সহকর্ম্মীর একপ্রাণতা, কোথায় সে নিঃস্বার্থ অকুণ্ঠ জাতীয়তাজ্ঞান যা’ এই জাতি-বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক বিষ নষ্ট করে ভারতের আনবে কল্যাণ? কেন এমন হ’লো? কারণ গত ত্রিশ বছর ধরে আমরা বাহিরের ইংরাজকে আঘাত করতে আমাদের সমস্ত শক্তি অপচয় করেছি এবং অন্তরের শত্রুকে করেছি উপেক্ষা। জাতির অন্তরের অশুদ্ধি ও দৈন্য ঘুচাতে চাই নাই। সে চরিত্রের দৈন্যের ফলে এসেছে বার বার বহির্জাতির আক্রমণ ও তাদের হাতে ভারতের পরাজয়। জাতির প্রায়শ্চিত্তের জন্য ভগবান এনেছেন এই পরাজয়—মনঃক্ষোভে আমরা চেয়েছি করতে বিধাতার প্রদত্ত সেই প্রায়শ্চিত্তকে অভিশাপ। আত্মবিস্তৃত ও দুর্ব্বল যা’ করে থাকে আমরা করেছি তাই—কেবলি বৃথা বিলাপ, বার্থ অভিমান, নিরন্তর অভিযোগ। জাতির শরীরের গলিত বিষব্রণ ঢাকবার এখন আর কোন উপায়ই নাই, আর এ ছলনা করবার কোন পথই নাই, যে, ভারত জাতি ধর্ম্মে বা কৃষ্টিতে —কোন দিক দিয়েই এক। আত্মকলহের ক্ষতে তার সর্ব্বাঙ্গ গিয়েছে ছেয়ে।

 এতগুলি জাতীয়তা-নাশী বিষ জাতি-শরীরে থাকতে স্বতন্ত্র ঐক্যবদ্ধ ভারতের স্বপ্ন দেখা বৃথা। এখন কিছু কালের জন্য আত্ম—গঠনে মন দিতে হবে যা’তে সমাজে, ধর্ম্মে, রাষ্ট্রে ভারতের বহুভাষাভাষী জাতিগুলি একজাতীয়তার সমবেদনা শেখে। সামুরাই জাপান যেমন তাদের

৩৪