ব্রিটেন ভারতের কি করেছে?
আভিজাত্য ও শ্রেণীভেদ বিসর্জ্জন দিয়ে একটি অখণ্ড একাত্ম জাতিরূপে উঠে দাড়িয়েছিল, বর্ণ জাতি গোষ্ঠী সম্প্রদায় সকল ভেদ ভুলে ভারতকেও তেমনি মিলিত হতে হবে। ভূয়া ধর্ম্মের নামে, হীন আচার ও শ্রেণীবিদ্বেষের নামে রচা শৃঙ্খল এখন ভারতের তরুণদের কুঠার হস্তে নির্ম্মম ঘায়ে ছিন্ন করে ফেলতে হবে। আমাদের মুখ্য সংগ্রাম বাহিরের ইংরাজের সঙ্গে নয়, ভিতরের শত্রুর সঙ্গে, নিজের চরিত্রের দৈন্যের ও হীন ব্যক্তিগত স্বার্থলোভের সঙ্গে, অন্ধ কুসংস্কার ও কদাচারের সঙ্গে।
আমাদের জাতীয় জীবনে যতগুলি দল বা শক্তি নেমেছে ভাঙ্গার কাজে সেই সব নটরাজের দক্ষযজ্ঞনাশী সেনাকে—জাতির সেই সব উন্মার্গগামী শক্তিকে এক করে একবার প্রয়োগ করতে হবে আমাদের সমাজ জীবনের শত শতাব্দী জীর্ণ অনাচার ও কদাচারের দুর্গটিকে ভেঙে ফেলতে, যাতে জাতির একীভূত সে শক্তি অচিরে করে দেয় দুর্ব্বার বলে ভিতরের সব বাধাকে চূর্ণ বিচূর্ণ। হিন্দু ও মুসলীম ভারত দুইকেই নিতে হবে এই শিক্ষা নবীন তুর্কীর কেমালের কাছ থেকে, ভারতের মুখ তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে অতীতের জড় হিমাচল থেকে ভবিষ্যতের রক্তরাঙা উদয়াচলের দিকে। অতীতের শিশু আমরা জন্মেছি বর্ত্তমানের কোলে স্বপ্ন দেখতে ভবিষ্যতের, জাতির জীবন নিয়ে পাশ্চাত্যে যে সব পরীক্ষা চলেছে তারই আলোয় সে স্বপ্ন সফল করে তুলতে হবে। গভর্ণমেণ্ট তার আইন পরিষদগুলির মধ্য দিয়ে এবং জাতি তাদের পুনর্গঠিত কার্য্যকরী কংগ্রেসের দ্বারা দেশের ধর্ম্মে, সামাজিক জীবনে, শিল্পে, বাণিজ্যে, কৃষিতে, স্বাস্থ্যে আনবে দ্রুত আমূল পরিবর্ত্তন; তবেই ভারত প্রকৃত শক্তি উর্জ্জন করবে—স্বরাজ লাভ করতে এবং চারিদিকের অন্তর বাহিরের বিরুদ্ধ আক্রমণ ও প্রতিক্রিয়া থেকে সেই স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে।
আজ বিজ্ঞান সুদূরকে করেছে নিকট, বিচ্ছিন্ন মানব পরিবারকে
৩৫