বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

করেছে সংহত ও একাঙ্গ। আজ তোমার দুঃখ আমাকে অবিলম্বে আঘাত করে, এ-জাতির প্রতিক্রিয়া ও-জাতিকে দেয় কত সহজে দুলিয়ে। আজ পরস্পরের মঙ্গল অমঙ্গল সত্য সত্যই করে পরস্পরের ওপর নির্ভর। অন্ধ সঙ্কীর্ণ জাতি-গর্ব্বের দিন চলে গেছে, আর দশ জনকে বাদ দিয়ে একের সাম্রাজ্য-গর্ব্ব হয়েছে আজ দস্যুতার সামিল। সকল দেশের সব রাষ্ট্রতন্ত্র আজ তাই যাচ্ছে ক্রমশঃ এক পরম বিশ্বজনীনতার ব্যাপক কল্যাণের রঙে রঙিয়ে। যুগদেবতা ভারতের ভাগ্য নিয়ে তাঁর গোপন হাতুড়ির ঘায়ে যে রচনায় রত আছেন, যুগযুগান্তের যে গ্রন্থী বা জটগুলি দ্রুত হস্তে খুলছেন, ব্রিটেনের অতীতে ছিল এবং এখনও আছে তাতে প্রভূত দান। বহু জাতি, বহু ধর্ম্ম, বহু ভাষা, বহু ক্বষ্টিকে নিয়ে হিন্দু মুসলমান শিখ খৃষ্টান বৌদ্ধ জৈনের এই অপূর্ব্ব কারু-খচিত জীবন গড়ে উঠছে শুধু ভারত স্বাতন্ত্র্যেরই জন্য নয়, সারা জগতের মানুষের মুক্তির জন্য। আমাদের আদর্শবাদে রাশিয়া যে যুগবিপর্য্যয় এনেছে তার ফলেও কম ওলটপালট ঘটায় নি। আজ কা’কে ছেড়ে কার মঙ্গলের দিকে উদাসীন হয়ে তোমরা ভারতের রাষ্ট্রজীবন গড়ে তুলতে পার?

 এসিয়ার জাতিগুলির মধ্যে ভারতই জেগেছে সব শেষে, তাই তার সমস্যাই সব চেয়ে জটিল। তাই এ-গঠনে চাই শক্তিশালী এক নিয়ামকের হাত, অগ্নির মত যা’ বহু উপকরণকে এক অনুপম রাসায়নিক নব সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলতে পারে। ভারতের শত শতাব্দীর সামাজিক নিষ্পেষণে নিপীড়িত কোটী কোটী সন্তানের স্তিমিত প্রাণে এখনও চেতনা আসে নাই; কঠিন প্রাণহীন অনুদার ধর্ম্ম ও আচার বন্ধন থেকে ভারতের জাতি-আত্মা এখনও রাহুমুক্ত হয় নাই। এখনও সনাতন ভারত নারীর পূর্ণ মুক্তিকে ভয় করে, তার লক্ষ কোটী অস্পৃশ্যের জাগরণকে ডরায়। গোঁড়া মুর্খ মৌলবী-পুরোহিত-দলিত ভারত, শাস্ত্রভীত পুণ্যকামুক সংস্কার-অন্ধ

৩৬