বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারতের পক্ষে লজ্জার কারণ, গৌরবের নয়

তার জঘন্যতা বুঝি, অথচ রাজনীতিক অভিসন্ধি ও দেশপ্রেমের নামে সেই নরঘাতক অস্ত্রকে আমরা শ্রদ্ধার চোখে দেখি। এ কোন্ দেশের যুক্তি? আমাদের নৈরাশ্যের ও ব্যর্থতার ক্ষোভ আমাদের বুদ্ধিকে বিকৃত করেছে, নইলে এই তপোভূমির বীর-পুত্র বীর-কন্যাদের নিষ্ফল নিঃস্বার্থ প্রাণকে এই পঙ্কিল পথ ধরতে দেখে এমনভাবে আনন্দ পেতাম না।

 ১৯০৫ সালে ভারতের রাজনীতিক মুক্তির উপায় স্বরূপ আমিই দেশে বোমা ও সন্ত্রাশবাদের প্রথম প্রবর্ত্তন করেছিলাম। সেই থেকে আজ অবধি আমাদের রাজনীতিক জীবনের তলে তলে এই পঙ্কিল গুপ্ত অন্তঃস্রোত বয়ে চলেছে এবং মাঝে মাঝে বাহিরে আত্মপ্রকাশ করছে। দেশের বিশেষতঃ বাংলার এক দল তরুণ এই বাঁকা পথের মোহ ছেড়ে কিছুতেই বাহির হতে পারছেন না। আমাদের প্রথম বিপ্লববাদ মূলক সংবাদপত্র যুগান্তরের যুক্তিগুলি দুরপনের হয়ে এঁদের অন্তরে আজও জেগে আছে। ভারত বদলেছে, আমি বদলেছি কিন্তু এঁরা বদলান নাই। তাই সময় এসেছে যখন আমাকেই মুক্ত কণ্ঠে দেখাতে হবে এ পথের জঘন্যতা, এ উপায়ের ব্যর্থতা; যাতে ভারতের রাজনীতি আবার মুক্ত নির্ম্মল ও পূত ধারায় আমাদের বিপক্ষেরও অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা আকর্ষণ করে এ জাতিকে আত্মস্থ ও সঞ্জীবিত করে তুলতে পারে। জাতির ও জগতের সামনে বিচারের জন্য আমার বক্তব্যটি ও যুক্তিগুলি খুলে বলার সময় এসেছে, যাতে এর নিরাকরণের একটা উপায় হয়।

 সন্ত্রাশবাদের বিরুদ্ধে এমন করে আমি লেখনী ধরেছি, কারণ যে দেশ রামমোহন, শ্রীরামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, শ্রীঅরবিন্দ, রবীন্দ্র নাথের জন্ম দিয়েছে, সেই বাংলার ছেলে মেয়েকে হীন গুপ্ত

৩৯