বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

ঘাতক ও পরস্বাপহারী দেখে আমি সত্য সত্যই অন্তরে ব্যথা ও লজ্জা পাই। এতে যে তাদের শুভ্র নিঃস্বার্থ প্রাণগুলি মলিন হয়ে যায়। ঝোপে ঝাড়ে লুকিয়ে দেশের নামে এখন তখন এই গুণ্ডামীর চেয়ে যে বহু শ্রেষ্ঠতর উপার ও পন্থা রয়েছে যা’ আমাদের দেশের রাজনীতিক মুক্তির জন্য ব্যাপক ভাবে অমোঘ হস্তে প্রয়োগ করা যায়। সে সব পথ ও উপায় কি আমরা প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে তার পর এই নিকৃষ্ট উপায় গ্রহণ করেছি? তা’ যে নয় তা’ সন্ত্রাশবাদ বাংলায় কি করে এলো তার কাহিনী শুনলেই বোঝা যাবে।

 মডারেটদের ভিক্ষানীতির পরই সন্ত্রাশবাদের জন্ম, তখনও দেশে তিলকের Responsive Co-operation বা মহাত্মা গান্ধীর অহিংস অসহযোগ প্রয়োগ করা হয় নাই। পরবর্ত্তী যুগে অসহযোগের প্রয়োগও ব্যর্থ হয়েছিল কিন্তু তিলকের পন্থাটির পরীক্ষা আজও হয় নাই। সন্ত্রাশবাদ যে সকল দিকে ব্যর্থতার ফলে আপদ্ধর্ম্ম হিসাবে গ্রহণ করা হয় নাই তা’ প্রমান করা শক্ত নয়।

সন্ত্রাশবাদের জন্মকথা

 ১৯০৩ সালে যখন বাংলায় প্রথম গুপ্ত বিপ্লব-সমিতির সূচনা হ’লো, সে সময়টা আমাদের ইতিহাসে এক অন্ধকারের যুগ; দেশে তখন জীবনের কোন সাড়াই নাই, আশার কোন ক্ষীণ রেখা ও জাতির অদৃষ্টীকাশের পূর্বাচলে দেখা যায় নাই। দেড় শ’ বছরের যথেচ্ছ ব্যুরোক্র্যাটিক শাসনের ফলে তখন দেশের বিদেশী রাজ-শক্তি ও সিভিলিয়ান কর্ম্মচারী দল দেশবাসীর উন্নতির দিকে উদাসীন ও উদ্ধত হয়ে উঠেছেন। মানুষের প্রকৃতিই এই, যথেচ্ছ প্রভুত্বের

৪০