ভারত কোন্ পথে?
উদাসীন তো ছিলই, অধিকন্তু দেশব্যাপী এই পরাধীনতা-জনিত অসন্তোষ প্রকাশ করবার কোন বৈধ পথ জাতির সন্মুখে মুক্ত ও সুলভ ছিল না। মুষ্টিমেয় শিক্ষিত সম্প্রদায় ছাড়া গোটা জাতিটা ছিল মূক ও পঙ্গু। সুরেন্দ্রনাথ, রাণাডে ও মেটার কংগ্রেস তখন ছিল একটা বাৎসরিক মজলিস বা তর্ক সভা মাত্র, যেখানে বছর বছর বড়দিনের বন্ধে ধনী নেতারা একত্র হয়ে বক্তৃতা করতেন ও কতকগুলি অভাব অভিযোগের বাঁধিগত সরকার বরাবরে পেশ করে প্রস্তাব পাশ করতেন। এই ছিল তখনকার দেশসেবা ও রাজনীতি কিন্তু শিক্ষিত তরুণ সমাজে সত্যকার মুক্তি-স্পৃহা জেগেছিল, তার চিহ্ন বঙ্কিম চন্দ্রের আনন্দমঠ, কবিদের উদ্দীপনাময় জাতীয় সঙ্গীত ও এই গুপ্ত চক্রান্তের সূচনা।
পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রচারেও য়ুরোপের কৃষ্টির সংঘাতে এই মৃতকল্প জাতি নূতন আশা আকাঙ্ক্ষার প্রেরণায় চঞ্চল হয়ে উঠেছিল, সঙ্গে সঙ্গে জেগেছিল পরাধীনতার ব্যথা ও আত্মপ্রকাশের আকুলতা। দেশের শিক্ষিত ইংরাজি নবীশরা ফরাসী বিপ্লব, ইতালীর জাগরণ, মার্কিন স্বাধীনতার সমর ও ডাচ্ প্রজাতন্ত্রের কাহিনী লুব্ধ প্রাণে পড়তো; পাশ্চাত্য কৃষ্টির মূল কথা—মুক্তি কামনা ও গণতন্ত্রের বাণী তাদের তৃষ্ণার্ত্ত মনে তুলেছিল প্রবল প্রতিক্রিয়া। দাদাভাই নৌরজীর “ভারতে ব্রিটিশের অ-ব্রিটিশ শাসন” ও রমেশ চন্দ্র দত্তের “ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ার অর্থনীতিক ইতিহাস” এই বই দু’খানি বৈদেশিক শোষণের দিকে তরুণদের চোখ খুলে দিয়েছিল। এই সব পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করে তৃপ্ত হবার উপযোগী কোন বৈধ রাজনীতিক আন্দোলন ও প্রতিষ্ঠান দেশে তখন ছিল না। সুরেন্দ্র নাথ, গোখলে ও রাণাডের মত নেতারা এই অসন্তোষ বহ্নিতে
৪২