বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

এখন তখন গুটিকতক রাজ কর্ম্মচারীকে হত্যা করে ভারত স্বাধীনতা পাবে এ কুযুক্তি যুগান্তর কখনও জাতিকে দেয় নাই। যার সহজ মোটা বুদ্ধি আছে সেও বোঝে এ যুক্তি কতখানি হাস্যকর, কতখানি অসার ও ভ্রমাত্মক। ভারতে সশস্ত্র বিপ্লব-চেষ্টাও ভ্রমাত্মক হতে পারে, নিরস্ত্র ভারতের পক্ষে তা’ সদুপায় না হতে পারে, কিন্তু তা’ গুপ্তহত্যার মত কুটিল ও ঘৃণ্য কখনই নয়।

 যাঁরা সে সময়ের গুপ্ত সমিতির মর্ম্মকথা জানেন, তাঁরা জানেন কিসে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের রাজনীতিক গুপ্তহত্যার মধ্যে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। আমাদের গুপ্তচক্রের নেতারা—যাঁরা সবাই-ই ছিলেন সুখ স্বাচ্ছন্দের কোলে লালিত, যাঁদের গায়ে বিপদের কোন আঁচ লাগার সম্ভাবনাই তখন ছিল না, তাঁরা এই গুপ্ত হত্যাকেই করেছিলেন আমাদের কাজে টাকা দিয়ে সাহায্য করবার একমাত্র সর্ত্ত। দেশের মুক্তি-যজ্ঞের এই যে প্রচার, এই যে আয়োজন, একাজে তাঁরা তবেই টাকা দেবেন যদি আমরা অমুক অত্যাচারী রাজ-কর্ম্মচারীকে,অমুক গভর্ণরকে, অমুক জজকে হত্যা করতে পারি। তাঁরা চলতেন আপাতঃ ক্রোধের ও দ্বেষের বশে। গুপ্ত হত্যার দ্বারা দেশের মুক্তির একটি সহজ আয়োজনকে তাঁরা এই ভাবে বিকৃত ও হীন পথে চালিয়ে অকালে নষ্ট করেছিলেন। সশস্ত্র বিদ্রোহে অনেক দেশ উঠেছে, তারা জগতের শ্রদ্ধাই অর্জ্জন করেছে! তপোভূমি ধর্মপ্রাণ ভারতে সেরূপ সশস্ত্র পশুবলের খেলা পরিণামে ভাল না হ’তে পারে, তা’ আমাদের জন্য বিধি নির্দ্দিষ্ট না হতে পারে, কিন্তু সন্মুখ-যুদ্ধ চিরদিনই প্রশংসার্হ, গুপ্ত নরহত্যার মত জঘন্য জিনিষ তা’ নয়।

 রাজশক্তির চোখে, আইনের কাছে হয়তো বিপ্লব ও গুপ্তহত্যা দুই-ই সমান রাজবিদ্রোহাত্মক; সমান অবৈধ। কিন্তু নীতির দিক দিয়ে,

৪৪