সন্ত্রাশবাদের জন্মকথা
মানুষের মহত্ত্বের দিক দিয়ে একটির চেয়ে অপরটি বহুগুণে হীন, একটি হচ্ছে আপদ্ধর্ম্ম ও অন্যটি পাপ। সশস্ত্র বিদ্রোহের ফলে যুদ্ধ করে জাতি মুক্ত হয়েছে এ রকম বহু দৃষ্টান্ত ইতিহাসে পাওয়া যায় কিন্তু বোমা ও রিভলভার নিয়ে গুণ্ডার মত খুন করে করে কোনও দেশ কখন মুক্তি অর্জ্জন করেছে এ দৃষ্টান্ত কোন জাতির ইতিহাসেই নাই। যদি গুপ্তঘাতকে একটি সুনিয়ন্ত্রিত সুগঠিত রাজশক্তিকে ভাঙতে পারতো, এক বলদৃপ্ত বীর-জাতিকে তার দেড়শ’ বছরের সাম্রাজ্য ভয় প্রদর্শনে ত্যাগ করাতে পারতো তা’ হ’লে ভারতকে বহু আগেই কলিকাতার মেছো বাজারের এক দল গুণ্ডা স্বাধীন করে দিত। দেশের রাজনীতিক মুক্তির জন্য এত যুদ্ধ, এত বিপ্লব, এত বিপুল আয়োজন তা’ হ’লে কখনও আবশ্যক হ’তো না।
আমরা দেশের প্রথম বিপ্লববাদীর দল ছিলাম উদ্দাম অন্ধ ভাবুক; ভারতে সশস্ত্র জাতীয় অভিযান ও বিদ্রোহ যে সম্ভব এ সম্বন্ধে কোন দ্বিধা, বিতর্ক বা সন্দেহ আমাদের আদর্শ-পাগল মনে ছিল না। যখন বিপ্লবী ভারত একটা দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত হয়েছে তখনই বোমা বা রাজনীতিক হত্যা দেশে অরাজকতা আনবার জন্য দরকার হবে এই ছিল আমাদের ধারণা ও মনের কথা। ১৯০৩ সাল থেকে একদল অন্ধ ভাবুক আমরা এই স্বপ্ন দেখছিলাম, এই অসাধ্য সাধনকে সফল করতে কাজে নেমেছিলাম। দেশব্যাপী সশস্ত্র জাগরণ সম্ভব বলে আমাদের ধারণা হয়েছিল, তার আর এক কারণ আমাদের গুপ্তচক্রের নেতারা বলতেন মহারাষ্ট্র ও উত্তর ভারত মুক্তি-সমরের জন্য একেবারে প্রস্তুত, বাংলার প্রতীক্ষায় তারা পথ চেয়ে আছে, এখন বাংলার আয়োজন সম্পূর্ণ হ’লেই হয়। ১৯০৭ সালে সুরাট কংগ্রেসের ভাঙনের সময়ে
৪৫