ভারত কোন্ পথে?
যখন আমি নিজে গিয়ে মহারাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বচক্ষে দেখে এলাম, যে, একথা কত ভূয়া, কতখানি মিথ্যা, তখনই বাংলায় আরম্ভ হ’লো এই অসাধ্য সাধনে একা দাঁড়াবার—একা আয়োজন করবার পাগল সংকল্পের। আমাদের নিরাশ প্রাণ মোরিয়া হয়ে উঠে গাইতে লাগল “ওরে, একলা চলো রে”। ভাবুক বাংলার এই দোষ, তার কার্য্যকরী জ্ঞান এখনও কম, তখন আদৌ ছিল না। বাংলা চলতো অন্ধ আবেগে ও ভাবের দমকা ঝড়ের বশে। তবু তখনও আমরা এভাবে বোমা বা রিভলভার দিয়ে নিরর্থক রাজকর্ম্মচারী হত্যার কথা ভাবি নাই।
ইতিমধ্যে ১৯০৫ সালে আমাদের গুপ্ত সমিতির আগুন উত্তেজনাকে চুরি করে নিয়ে তাকেই মোড় ফিরিয়ে দেশব্যাপী স্বদেশী আন্দোলন আরম্ভ হয়ে গেছে, স্বদেশী শোভাযাত্রার ওপর বরিশালে ও বৌবাজারে পুলিশ লাঠিবাজী করেছে, নির্ম্মম প্রহারে কন্ফারেন্স ও শোভাযাত্রা ভেঙে দিয়েছে। এতে আমাদের নেতারা গেছেন চটে। ক্রুদ্ধ বিচলিত তাঁরা এই তুচ্ছ ব্যাপারের প্রতিশোধ নেওয়াটাই বড় মনে করে নিছক বোমা বাজীর জন্যই টাকা দিতে স্বীকৃত হলেন, একটা সুদূর পরাহত বিদ্রোহের আর রুধির জোগাতে রাজী হলেন না। ধীর মস্তিষ্কে বসে দেশে বিপ্লবের আয়োজন করার অগত্যা কোন আশাই আর রইলো না। এক দল দরিদ্র তরুণ ভাবুক ছেলে ছাড়া এত বড় দুরূহ লক্ষ্যের জন্য দেশের কোথায়ও কারও কাছে সাড়া ও সহানুভূতি পাওয়া গেল না। সে আয়োজন সম্পূর্ণ করা দূরে থাক তা’ কোন গতিকে আরম্ভ করার অর্থ ও পাথেয় পর্য্যন্ত পাওয়া দুর্ল্লভ হলো। ক্রমাগত সিপাহী যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ কাহিনী পড়ে এবং পড়িয়েও তার একটা ক্ষীণ
৪৬