বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সন্ত্রাসবাদের জন্মকথা

অনুকরণ—একটা আংশিক বিদ্রোহ দেশে কার্য্যকরী করে যে তোলা যাবে সে আশা আমাদের উকিল ব্যারিষ্টার কর্ত্তাদের দেখে মনে বাঁচিয়ে রাখা দুস্কর হলো। নিরস্ত্র প্রাণহীন মৃত বাংলার সৌখীন বিপ্লবী নেতাদের এই অর্থ—সাহায্য তাঁদেরই সর্ত্তে—জেনে শুনেই নিশ্চিত আত্মঘাতের পথে পা বাড়িয়েই তবে নিতে হলো।

 বিপ্লবী চক্রের যখন এই অবস্থা তখন এই বেদরদী ইজি-চেয়ার নেতাদের তাড়নায় আমাদের সহায় সম্বলহীন বুভুক্ষু দলটি নিছক অন্নবস্ত্রের অভাব মেটাবার জন্যই বাংলার জনপ্রিয় লেফটেন্যাণ্ট গভর্ণর সার এণ্ড ফ্রেজারের গাড়ীর তলায় মাইন পুঁতে তা’ উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করেছিল। যে দারুণ অভাবের বশে আমরা অকালে এমন করে বোমার অপ-প্রয়োগে বাধ্য হলাম সেই অভাবেই আমাদের পরিশেষে রাজনীতিক উদ্দেশ্যে ডাকাতীতেও লিপ্ত করেছিল। যুগান্তরের দল গুপ্ত হত্যার মত ডাকাতী, লুণ্ঠন ও দেশের ধনীর অর্থ বলপ্রয়োগে গ্রহণ সমর্থন করতো ঠিক বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পূর্ব্বের জন্য, তখন দেশে অরাজকতা আনবার জন্য। দেশবাসীর সর্ব্বস্ব সাধারণ চোর ডাকাতের মত অপহরণ করে দেশবাসীর শ্রদ্ধা হারানো এ দলের মত কখনও ছিল না। আপদ্ধর্ম্ম হিসাবে ধনীর টাকা বা অর্থবান ব্যবসায়ীর টাকা যা’ পরে কেড়ে নেওয়া হবে তা’ দেশে স্বরাজ স্থাপিত হলে প্রত্যর্পণ করা হবে এই ছিল আমাদের ধারণা। গভর্ণমেণ্টের ট্রেজারি লুণ্ঠন অবশ্য বিপ্লবীর চোখে আমরা বৈধই মনে করতাম কিন্তু ঢাকার অনুশীলন দল ও অন্যান্য দলেরা যে হীন রাহাজানী ও গৃহস্থের সর্ব্বস্বাপহরণ আরম্ভ করলো সে কেবল সরকারী অর্থ লুট করা কঠিন ব্যাপার বলেই। যুগান্তর দল দু’ এক জায়গায় কঠিন দারিদ্র্যের

৪৭