বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

জ্বালায় নিতান্ত অনিচ্ছায় এ চেষ্টা করেছিল কিন্তু সৌভাগ্য ক্রমে সফল হয় নাই। অনুশীলন দলের দ্বারা এই হীন চেষ্টা সফল হবার পর থেকে আর দেশহিতব্রতী ও সাধারণ চোর ডাকাতে কোন পার্থক্যই রইলো না। এই ডাকাতী দ্বারা লব্ধ অর্থ খুব কম জায়গায়ই দেশের কাজে লেগেছিল। এ পাপের ধন নয় গেছে বেশ্যালয়ে অথবা গেছে স্বার্থপরের উদরে কিম্বা গেছে মোকদ্দমায় উকিল ব্যারিষ্টারের পেটে। আমি যখন আণ্ডামান থেকে ফিরে এসে ১৯২৩ সালে পণ্ডিচারীতে শ্রীঅরবিন্দ আশ্রমে যোগ-সাধনা করছি, তখন দু’টি ছেলে চাটগাঁর রেল কোম্পানীর লুণ্ঠিত দশহাজার টাকা নিয়ে সেখানে শ্রীঅরবিন্দকে দিতে গিয়েছিল। তারা শীঘ্রই ধরা পড়বে, এত কষ্টের টাকা যার হাতে গচ্ছিত রাখবে সেই সে অর্থ আত্মসাৎ করে খেয়ে ফেলবে। এই ভেবে তারা সে অর্থ মন্দের ভাল হিসাবে শ্রীঅরবিন্দকে দিতে গিয়েছিল। আমার মুখে এ সংবাদ পেয়ে শ্রীঅরবিন্দ বললেন, “বারীন, সাবধান! এ পাপের টাকা নিও না, এর পিছনে আছে এক অশুভ শক্তির ছায়া। এ সব অর্থে সাধনাশ্রম গড়া দূরে থাক কোন সৎকাজই কখনও হতে পারে না।” তারা নিরাশ হরে ফিরে এসে ভবানীপুরে একজন বন্ধুর কাছে টাকাটি গচ্ছিত রেখে ধরা পড়ে গেল, সেই টাকায় পরে সেই বন্ধুর দোতলা বাড়ী উঠেছে তা’ আমি জানি। আন্দামানে থাকতে আমরা দেশে পাঁচ হাজার টাকা তুলিয়ে কোন এক জন নির্ব্বাসিত বন্দীর ভাইএর হাতে রাখিয়েছিলাম। সে টাকা আমাদের কাজে লাগে নাই; কলেজ স্ট্রীটের খুব বড় একখানি বইএর দোকানে সে টাকা আজও মূলধন রূপে খাটছে। এসব অর্থের চিরদিনই এই পরিণাম। দেশকে লুণ্ঠন করে দেশের সেবা—তার মত নির্ব্বুদ্ধিতার ও হঠকারিতার কাজ

৪৮