বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সন্ত্রাশবাদ জাতীয় আন্দোলন আখ্যার যোগ্য নয়

আর নাই, এই সব হীন পথ ধরেই এত বড় ত্যাগের পথ মলিন হয়ে গেল, বিপ্লবীরা দেশের শ্রদ্ধা হারালো।

 বোমা ও ডাকাতীকে দেশসেবার সোপান করার এই হচ্ছে প্রকৃত ইতিহাস। রাশিয়ান এনার্কিষ্ট ও আইরিশ সিন্-ফিন্ দলের অনুপ্রেরণা আমাদের তরুণ মনকে পাগল করে তুলেছিল। পেটের দায়ে ও সৌখীন দায়িত্ব-জ্ঞানহীন নেতার পীড়নে অকালে বোমার এরকম অপপ্রয়োগে যে দেশের কতখানি ক্ষতি হবে, কত মূল্যবান প্রাণ বিফলে নষ্ট হয়ে যাবে একথা বোঝবার ধৈর্য্য ও ইতিহাস-জ্ঞান আমাদের তখন কারও ছিল না। আজ তা’ অবিসম্বাদিত ভাবে প্রমাণ হয়ে গেছে। দেশের মুক্তি-অভিযানও এই কুহকে পড়ে যে কতখানি পিছিয়ে গেছে, কত সময়, শক্তি ও অমূল্য প্রাণ নষ্ট হয়েছে, তা’র হিসাব আজ কে করবে?

সন্ত্রাশবাদ জাতীয় আন্দোলন আখ্যার যোগ্য নয়

 আমাদের দেশের ত্যাগী দেশপ্রাণ ছেলে মেয়েরা কেন যে বোমা রিভলবারের রাজনীতি ত্যাগ করবে তার আরও যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। দেশে মহাত্মাজীর আনীত অসহযোগ আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। দেশকে মুক্তির সন্নিহিত করবার জন্য এখন দরকার দেশব্যাপী এক নূতন আন্দোলন; এখন চাই এমন মন্ত্র, এমন মহান উচ্চ ভাব ও সত্য, যার কাছে হিন্দু মুসলমান খৃশ্চান নির্ব্বিশেষে দেশের সকল সন্তানের শির শ্রদ্ধায় আপনি নত হয়, সবার প্রাণতন্ত্রীতে ঘা পড়ে। তপোভূমি ভারতের দেশপ্রেম হবে আকাশের মত উদার নির্ম্মল ও বৃহৎ, রাগদ্বেষ-বর্জ্জিত অহঙ্কার-মুক্ত সে প্রেরণা শ্রদ্ধা ও প্রীতি আকর্ষণ করবে শুধু দেশবাসীর নয়, বাহিরের মানুষের, এমন

৪৯