বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সন্ত্রাশবাদ জাতীয় আন্দোলন আখ্যার যোগ্য নয়

ব্যক্তিগত স্বার্থ ও হানাহানিই চল্লিশ কোটী মানুষের অমন দেশকে আজও একপ্রাণ হতে দিচ্ছে না। অথচ তারাও মুক্তি-যজ্ঞ আরম্ভ করে তারই ফলে ক্রমশঃ এই ব্যক্তিগত স্বার্থের নরকে নেমেছে। আমরা আংশিক স্বরাজও পাই নাই, অথচ বাংলার ও অন্যান্য প্রদেশের কংগ্রেসী রাজনীতির মেছোহাটার চিত্রটি একবার চেয়ে দেখো। হাতে অস্ত্র পেলে, জাতির কাছে ক্ষমতা পেলে এরাই চীনের মিলিটারী লর্ডস্দের সগোত্রজ হয়ে দাঁড়াবে।

 সন্ত্রাশবাদীরা তর্ক ভুলে বলতে পারেন, যে, তাঁদের পন্থাকে সন্ত্রাশবাদ নাম দেওয়া শাসকদের রাগের কথা; আসলে তাঁরা বিপ্লববাদী, তাঁদের আছে সুস্পষ্ট পথ ও প্রোগ্রাম, এলোমেলো ধ্বংসের দূত সন্ত্রাশবাদী তাঁরা নন। বেশ তো, আমার পূর্ব্ব সহযাত্রী বন্ধুদের যাঁরা বন্দীশালায় আজ ব্যর্থতার মাঝে জীবনের লহরী গুণছেন আর যাঁরা পালিয়ে বনে বাদাড়ে আছেন, তাঁদের যে কেউ আমাকে বুঝিয়ে দিন, যে, স্বরাজ-লাভের সুস্পষ্ট সুগম পন্থা ধরে দেশে তাঁরা একতাবদ্ধ সংহত এক দল গড়তে আজও পেরেছেন। আমরা যুগান্তরের দল গোড়ায় ছোট হলেও সংহত একপ্রাণ এমনি একটি দল গড়ে সুস্পষ্ট প্রোগ্রাম নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। ঘটনাচক্রে এবং অসম্ভব বলে তা’ টিকে নাই, দেশের শুধু আংশিক জাগরণ এনে নিভে গিয়েছিল। তখন যা’ হয় নাই, এখন তা’ আরও অসম্ভব। এখন গভর্ণমেণ্ট অধিকতর সতর্ক, গ্রামে গ্রামে সহরে সহরে গুপ্তচর চার চক্ষু হয়ে ঘুরছে, তোমাদের কাজের ফলে উৎপীড়িত দেশবাসী তোমাদের বিরুদ্ধে দল বাঁধছে, এখন দেশব্যাপী কার্য্যকরী বিপ্লবের আয়োজন আদৌ সম্ভব নয়। তাই যদি হয় তবে দেশের সব চেয়ে নিঃস্বার্থ প্রাণগুলি বৃথা এমন করে নষ্ট করায় লাভ কি? দেশের

৫১