বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

কাঁচা অগঠিত মনগুলিকে ভুলপথে আলেয়ার মত ভুলিয়ে নিয়ে ব্যর্থতায় বিষিয়ে তোলায় লাভ কি? দেশের শিক্ষা, দীক্ষা, কৃষি, বাণিজ্যে, স্বাস্থ্যে, রাজনীতিতে, সমাজে, ধর্ম্মে সমস্ত ক্ষেত্রেই গঠনের কাজ অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে, তোমাদের অমূল্য প্রাণগুলির আত্মদান ও সেবা যে সেখানে দরকার।

 অতর্কিত আক্রমণে এ রকম করে বিক্ষিপ্ত নরহত্যার আন্দোলন, যা’ আইনের কবলে ও পুলিশের পীড়নে বার বার ভেঙে পড়তে পারে এবং পড়েছে তা’কে জাতীয় আন্দোলন নামে গড়ে তোলা তো যাবেই না, তা’ দিয়ে এ পতিত জাতির কোন কল্যাণই হবে না। যা’ সমস্ত দেশকে নিয়ে আমূল নাড়া না দিতে পারে তাকে জাতীয় আন্দোলন বলি কি করে? একবার নয়, দুইবার নয়,— ১৯০৭, ১৯২৩ ও ১৯৩০ সালে তিন তিনবার দেশে সন্ত্রাশবাদ সজোরে মাথা তুলেছে, গভর্ণমেণ্টের গোয়েন্দা বিভাগ ও অর্ডিন্যান্সের চাপে তা’ তিনবারই মরেছে। একথা যে কতখানি সত্য তা’ আমি সরকারী কাগজপত্র ও অঙ্ক শাস্ত্রের অকাট্য প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি।

 ১৯০৭ সালে যুগান্তর, অনুশীলন ও আত্মোন্নতি আদি দল দেশে যে তরঙ্গ এনেছিল তা’ সাত বছরে ১২৫টি হত্যা ইত্যাদি সন্ত্রাশবাদমূলক দুর্ঘটনা ঘটায়, ১৯১৫ সালেই তার চরম প্রকাশ। কিন্তু Defence of India Actsএর বলে গুপ্তচক্রের ১০২৯ জন নেতা ও কর্ম্মীকে বেড়াজালে আটক করবামাত্র প্রাণহীন এ আন্দোলন মরে নিঃশেষে ফুরিয়ে গেল। ১৯১৬ থেকে ১৯১৯ অবধি অনুষ্ঠিত হত্যা ইত্যাদির বহর দেখলেই সন্ত্রাশবাদের অবশ্যম্ভাবী অপমৃত্যু সুস্পষ্ট প্রমাণ হবে।

৫২