বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

জন-সাধারণের দুঃখ তাতে ঘুচবে না, তারা যে তিমিরে সেই তিমিরেই থেকে যাবে। তাদের গড়া বাবু-রাজ হবে ধুতিপরা ব্রিটিশ রাজ মাত্র। ব্রিটিশ রাজের চেয়ে অনেক দিক দিয়েই তা নিকৃষ্ট ছাড়া উৎকষ্ট হবে না। ভারতে সাম্যবাদের নব-পুরোহিত কংগ্রেস সভাপতি পণ্ডিত জোয়াহির লালঙ্গী সন্ত্রাশবাদকে বলেছেন—“That tragic and futile philosophy”—“সেই ব্যর্থ সর্ব্বনাশা আদর্শবাদ”। “Terroism is always a sign of political immaturity in a people” “—অর্থাৎ সন্ত্রাশবাদ জাতির রাজনীতিক নাবালকত্ব ও অপক্কতার চিহ্ন।”

 যখন দেশব্যাপী নৈরাশ্যের অন্ধকারে বোমার জন্ম হয়েছিল দেশের সে অবস্থা বহু দিন হ’লো কেটে গেছে। এখন শিক্ষিত ভারত এবং অশিক্ষিত জনসাধারণের কতক অংশ তাদের দেশ ও রাজনীতিক অধিকার সম্বন্ধে সজাগ হয়েছে। এদিক দিয়েও সন্ত্রাশবাদীর সে দেশ জাগাবার অছিলাও আর নাই। মহাত্মাজীর অহিংস মুক্ত দেশব্যাপী আন্দোলনের ফলে দেশের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ভাবের তরঙ্গের পর তরঙ্গ, জাতিকে দিয়ে গেছে এক অটুট আত্মবিশ্বাস ও প্রচুর প্রাণশক্তি। এমন কি ত্রিশ বছর আগে যে ব্রিটিশ গভর্ণমেণ্ট ছিল তারও বহু পরিবর্ত্তন এসেছে, যে দৃপ্ত উচ্চাসনে বসে রাজশক্তি তখন যথেচ্ছাচারের রাজদণ্ড চালনা করতেন তাঁরা আর সেখানে নাই; দেশের উন্নতির দিকে অন্ধ সে অবজ্ঞা থেকে দেশের মুক্তিযজ্ঞ তাঁদেরও করেছে সচেতন, তাঁদেরও দিয়েছে অনেকখানি বদলে। এখন আর সে দিন সুদূর নয়, কল্পনারও অতীত নয়, যখন এই বিদেশী শাসনচক্র বৈধ উন্নতির খরবেগের ক্রমবিবর্ত্তনে সম্পূর্ণ স্বদেশী হয়ে যাবে। সে দিন আর দূরে নাই, যখন দেশের শাসনচক্রের স্বদেশী ও বিদেশী দুই শক্তিই সম্মিলিত

৫৬