বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সন্ত্রাশবাদ জাতীয় আন্দোলন আখ্যার যোগ্য নয়

হয়ে গড়ে তুলবে কষ্টি ও সভ্যতায়, ধনে ও ধান্যে, শিল্পে ও বাণিজ্যে এক নূতন ভারত। সংহতিই শক্তি, মানুষে মানুষে হানাহানিই দুর্ব্বলতা। দেশ-গঠনের উপকরণে এই গঠনকুশলী শ্বেত জাতির দান অনেকখানি, তাদের বাদ দিয়ে দেশ শাসন, রক্ষণ ও জাতীয় জীবন গঠনের সামর্থ্য এখনও এই শতধা বিভক্ত ভারতীয় আর্য্য জাতি অর্জ্জন করতে পারে নাই।

 সন্ত্রাশবাদের মত বিশৃঙ্খল লক্ষ্যহীন বিক্ষিপ্ত চেষ্টা সমগ্র ভারতকে গড়ে তোলবার মত কোন কর্ম্মধারাই দেশে আনতে পারে না। সন্ত্রাশবাদের প্রণালী হচ্ছে আসুরিক ও দ্বেষ-মূলক, কি দেশবাসী আর কি শাসক দু’ দলেরই প্রাণতন্ত্রীর সেইখানে সন্ত্রাশবাদ ঘা দেয় যেখানে সুশুপ্ত আছে মলিন পশুশক্তি বা অসুর, বুদ্ধি বা যুক্তির তারে তা’ আঘাত করে না, হৃদয়ের প্রেম আদি মহৎ বৃত্তিগুলিকে জাগায় না, জাগায় ঘৃণাকে, ক্রোধকে, জিঘাংসাকে। যাকে সে আক্রমণ করে সেই আক্রান্তের মধ্যেও সন্ত্রাশবাদের ফলে প্রথমে জাগায় আতঙ্ক, আত্মরক্ষার ব্যাকুল চেষ্টা এবং শেষে প্রতিহিংসার—পিপাসা ও ক্রোধবিকৃত যুক্তি। এইভাবে মানুষের রক্তে দেশ ভাসিয়ে যে রাজশক্তি আমরা লাভ করব তা’ হবে ক্রূর সাম্রাজ্যবাদ ও পশুবলের জননী। জাপানের যে বাহুবল এক দিন রাশিয়ার সামরিক শক্তিকে চূর্ণ করতে সমর্থ হয়েছিল আজ সেই বলদৃপ্ত জাপান মঙ্গোলিয়া, কোরিয়া ও চীনের বিমল দেশপ্রেমের হয়েছে পরম শত্রু। এক দিন পরাধীন ভারতে আমরা এই জাপানের সামুরাই ক্ষাত্রশক্তির জয়গান করেছিলাম, মুগ্ধনেত্রে উদীয়মান জাপানের দিকে চেয়ে ভেবেছিলাম এই বৌদ্ধ জাতি এক দিন এসিয়ার হবে ত্রাণকর্ত্তা। সেই জাপান আজ পররাষ্ট্র লুণ্ঠক ও সাম্রাজ্যলোভী হয়ে দাঁড়িয়েছে, সাম্রাজ্যগর্ব্বে জগৎ

৫৭