বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সন্ত্রাশবাদ জাতীয় আন্দোলন আখ্যার যোগ্য নয়

হচ্ছে রাজ-শক্তির সঙ্গে প্রজার একটা বোঝা পড়া। মানব পরিবারের অন্তর্গত খণ্ড খণ্ড জাতিগুলি কোন স্বার্থ নিয়ে ধৈর্য্যচ্যুত হয়ে যদি বা কখনও কলহ করে, হানাহানি করে, কিন্তু তার পর তারা শান্ত হয়ে বসে এবং একটা রফা বা বোঝা পড়া করে নেয়। কাল যে জাতিরা পরস্পর শত্রু ছিল আজ তারা হয় বন্ধু—allies; রাগের পরকলায় যাদের কাল বিকৃত করে জিঘাংসার পাত্র মনে হচ্ছিল আজ যুক্তি ও বিচারের চোখে তাদের আবার সমধর্ম্মী মানুষ বলে মনে হচ্ছে। এই হচ্ছে মানুষের ধারা, তাই আগেই বলেছি হানাহানিতে কল্যাণ নাই, কল্যাণ মিলনে, সংহতিতে ও সহযোগে। যতই হানাহানি বা প্রতিযোগিতা কর, এক দিন মানুষ বলে তার সঙ্গে সৌহার্দ্য বন্ধনে মিলতেই হবে।

 ১৯০৫ সাল থেকে আজ অবধি আমরা রাজশক্তির সঙ্গে কেবলি করেছি হানাহানি, কেবলি ভেবেছি সংঘর্ষের কথা, জাতি বিদ্বেষের কথা। তাদের সঙ্গে এত যুদ্ধের পর এত সংঘর্ষের পর কি লাভ করেছি তা’ ফিরে দেখি নাই, সে লাভ জাতির কল্যাণে নিয়োগ করার কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবি নাই। সেই ফিরে চাওয়ার দিন এসেছে, জাতির নবজাগ্রত আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তা জ্ঞানকে গঠনের কাছে প্রয়োগ করার দিন এসেছে। আজ দিন এসেছে যখন কংগ্রেসকে ও দেশের রাজশক্তিকে পরস্পরের সহযোগে হোক, পৃথক পৃথক বা পাশাপাশি হোক—জাতি গঠনের কর্ম্মপদ্ধতি ছকে ও সফল করে তুলতেই হবে। ভূয়া রাজনীতিক আন্দোলন ও হানাহানি ছেড়ে জাতির এত দিনের নষ্ট অবহেলিত শিক্ষা, দীক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, ধর্ম্ম, সমাজ, স্বাস্থ্য শিল্প পুণরুজ্জীবিত করতে হবে। দেশের তরুণরা এত দিন যে শক্তি নিয়ে দলে দলে গেছে ধ্বংসমূলক আন্দোলনের দিকে সেই শক্তির

৫৯