ভারত কোন্ পথে?
দিতে হবে গঠনের দিকে মোড় ফিরিয়ে; দলে দলে নিঃস্বার্থপ্রাণ কর্ম্মীদের দেশময় ছড়িয়ে পড়তে হবে শিক্ষার সেনা হয়ে, কবির সেনা হয়ে, কুটির শিল্প ও বাণিজ্যের সেনা হয়ে, স্বাস্থ্যের পল্লীগঠনের সেনা হয়ে। বাঙালীর ছেলেমেয়ের মনগুলিকে করে তুলতে হবে গঠন-ক্ষেপা, সৃষ্টি-পাগল।
যাঁরা অবসাদগ্রস্ত আশাহীন মন নিয়ে বলেন রাজশক্তি সম্পূর্ণ করায়ত্ত করা বিনা গঠন সম্ভব নয়, বিদেশী রাজশক্তি দেশব্যাপী গঠন হ’তে দেবে না; তাঁদের সে যুক্তি যে কতখানি ভ্রান্ত তা’ একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে। আমরা এক কাঠা জমি নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে মাথা ফাটাফাটি করি, বাঙালী জমিদার সামান্য খাজনার দায়ে প্রজাকে উৎসন্ন করে দেয়; আর আমরা আশা করি এত বড় সাম্রাজ্য ইংরাজ জাতি বিনা বাক্য ব্যয়ে ছেড়ে দিয়ে যাবে। রাজনীতিতে দান খয়রাৎ নাই, দয়া মায়া নাই, ওখানে আছে যোগ্যের আদর, বুদ্ধিজীবি ও গঠনকুশলীর জয়। এত বড় সংহত সুদৃঢ় সুনিয়ন্ত্রিত রাজশক্তির বিরুদ্ধে যখন আমরা বিদ্রোহের সন্ত্রাশবাদের আয়োজন করি, অসহযোগ ও আইনভঙ্গের আন্দোলন গড়ি, তখন এ যুক্তি মনে আসে না, যে, দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত রাজশক্তি এ অবৈধ আন্দোলন হতে দেবে না, নির্ম্মম হস্তে ভেঙে দেবে। গঠনের বেলাই কেবল অলস কর্ম্মবিমুখ আমাদের এই কুযুক্তির অবতারণা; তার মানে আমাদের মন নৈরাশ্যবাদী—cynic হয়ে গেছে, আমরা অতিরঞ্জিত করে কেবলি দেখছি বাধা, কেবলি দেখছি “না” এর—নেতি নেতির দিকটা; কেবলি বড় করে ধরছি অবিশ্বাস, সন্দেহ, ছিদ্রান্বেষণকে। একথা ভাবি না, যে, রাজশক্তি যদি বৈধ গঠনের আন্দোলনকে বাধা দেয় তা’ হ'লে জনপ্রিয় হবার
৬০