সন্ত্রাশবাদ জাতীয় আন্দোলন আখ্যার যোগ্য নয়
তাদের এত ব্যাকুলতা ব্যর্থ হয়ে যাবে, গভর্ণমেণ্ট অচল হবে। দেশে আজ রাজশক্তিই গঠনের কাজ করছে, কৃষি-ব্যাঙ্ক স্থাপন, কৃষি-ঋণ লাঘব, পল্লীগঠন, কুটির শিল্প উদ্ধার, বেকার সমস্যার সমাধান, বাধ্যতা মূলক শিক্ষাপ্রচার এসব কাজ যতটুকুই হোক গভর্ণমেণ্টই করছে। কংগ্রেস করছে এখনও ভূয়া সভা সমিতি, আত্মকলহ ও চরকা হাতে যন্ত্রশিল্পের বিরুদ্ধতা।
আমি জাতিকে, বিশেষতঃ বাংলা দেশকে কিছু দিনের জন্য ভুলতে বলি এই দলাদলির রাজনীতি, সামপ্রদায়িকতার রাজনীতি, জাতিবিদ্বেষের রাজনীতি, বাক্য-বাগীশের রাজনীতি। যাঁরা এখনও ঐ সব করতে চান করুন, কিন্তু দেশের অবশিষ্ট লক্ষ লক্ষ তরুণকে গড়তে হবে শিক্ষার কংগ্রেস, শিল্পবাণিজ্যের কংগ্রেস, নূতন সমাজগঠনের কংগ্রেস, স্বাস্থ্য ও পল্লী প্রগতির কংগ্রেস। লাল রাশিয়া উৎপীড়িত অবহেলিত শূদ্রের আত্যন্তিক কল্যাণের জন্য বাণী এনেছে, তপোভূমি ধর্ম্মপ্রাণ ভারতের আদর্শ ও বাণীর সঙ্গে তার কোন সঙ্গতি নাই; ভারতের বাণী হবে আরও ব্যাপক, আরও করুণা ও মৈত্রী মূলক, আরও সার্ব্বজনীন। আমি তোমাদের বলছি কম্যুনিষ্ট রাশিয়া মানবের পূর্ণ মুক্তি আনতে পারবে না,কারণ তাদের এত বড় আদর্শেরও পন্থা বা উপায় হচ্ছে সেই পশুবল, সেই হানাহানি ও শ্রেণীবিদ্বেষ, সেই মিলিটারিজম্ ও নরহত্যা। আগেই তোমাদের বলেছি এই আসুরিক পন্থায় প্রকৃত মানবকল্যাণ হয় না, হয় বামা—কালীর রক্তরাঙা আসনের প্রতিষ্ঠা। মানবকল্যাণের নামে পশুবলদৃপ্ত ঠ্যাঙাড়ের সৃষ্টি ইতিহাসে মানুষ বার বার করেছে, ভারত যদি তারই পুণরাবৃত্তি করে তা’ হলে সে তার জগদ্গুরুর আসন হারাবে, আর্ত্তত্রাণ মহাব্রত তার ব্যর্থ হয়ে যাবে।
৬১