বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

“পরিত্রাণায় চ সাধুনাম বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্ম্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥”

 নারায়ণের এ বাণী ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ কথা ভেবো না, যে, আমাদের বন্ধনের হেতু শুধু ইংরাজ। পাশ্চাত্য শিক্ষার এত বড় অগ্রদূত এই ইংরাজ জাতির আসার পূর্ব্বে শতাব্দির পর শতাব্দি এসেছে নিছক ধনলুব্ধ লুণ্ঠকের দল; অশোক ও চন্দ্রগুপ্তের গড়া অত বড় সাম্রাজ্য মুছে গেছে অসভ্য জাতির সঙ্ঘাতে সঙ্ঘাতে। বার বার আমাদের কেন এ বন্ধন, কেন এ পরাধীনতা? কারণ এই সব লুণ্ঠক বিজেতারা এসে পেয়েছিল মুষ্টিমেয় ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ের ভারত, সমবেদনায় ভ্রাতৃত্বে বাঁধা এক অখণ্ড ত্রিশকোটীর ভারত নয়। ধর্ম্মান্ধতা, অপশাস্ত্র ও সামাজিক কদাচারের নামে দেশের নারী-শক্তি ও শূদ্র-শক্তিকে পদদলিত মুর্খ ও প্রাণহীন করে রেখে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ের ভারত কাজেই তাসের গড়া ঘরের মত বার বার বাহিরাক্রমণে ভেঙে পড়েছে। এ কথা যে কত সত্য তা’ মহামনা রামমোহনের লেখা পড়লেই বোঝা যায়, তিনি এই কথা স্পষ্ট বাক্যে বলে গেছেন। সেই বহু শতাব্দি ধরে অনুষ্ঠিত নারীদ্রোহ ও শূদ্রদ্রোহের এই প্রায়শ্চিত্য আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল পরে সাত শতাব্দি ধরে করছি। আত্মঘাতী ঐ সামাজিক নিপীড়নের মত এই তুচ্ছ রাজনীতিক বন্ধন এতখানি বিকৃতি ও মনুষ্যত্বের খর্ব্বতা আনতে পারে না। বরঞ্চ পাশ্চাত্য তার মানুষ-গড়া বৈদ্যুতিক স্পর্শে শুধু ভারতে নয়, সারা এসিয়ায় এনেছে নূতন প্রাণ, নব প্রেরণা, অভিনব প্রগতি। ঐ মানবদ্রোহিতার পাপ আমাদের দূর করতে হবে—আগে গড়ে তুলতে হবে দরিদ্র চাষী মজুরের ঘর, তাদের ফিরে দিতে হবে নিস্তেজ মূক মন, তাদের অপহৃত মনুষ্যত্ব। ধনে ধান্যে পূর্ণ পল্লী, শিক্ষায় স্বাস্থ্যে নিরাময় জাতিই

৬২