জোয়াহির লাল ও কুম্যনিজম্
তাই যখন তাঁরা কথা বলেন, উৎকর্ণ জগৎকে বাণী দেন, তখন সেই মন্ত্রের অমোঘ বলে জগৎ নড়ে যায়—নূতন নূতন প্রগতির সূত্র পেয়ে মানুষ নূতন পথে যাত্রা করে। কিন্তু পাশ্চাত্যের স্কুল কলেজের এই সব পাঠমুখস্তকারী সর্দার পোড়োদের না আছে ধ্যান, না আছে মৌলিক দৃষ্টি বা স্বতন্ত্র মনীষা; এঁরা এঁদের বুদ্ধির জগতের মক্কা ঐ পশ্চিমের দিকে মুখ করেই পড়েন নমাজ, তাদের চিন্তা নিয়ে এঁরা করেন চিন্তা। এসিয়ার প্রাণ, ভারতের আত্মা এঁদের মাঝে এখনও সুপ্ত, তাই এঁদের বাণী ঐ পল্লীপ্রান্তের পর্ণকুটিরের কন্থাচীরপরা যে ভারত তার প্রাণতন্ত্রীতে ঘা দেয় না, তাদের মর্ম্ম স্পর্শ করে না।
ইতিহাসের মূল সূত্র হচ্ছে মানব জীবন নিয়ে পরীক্ষা— experiments; ধর্ম্ম সমাজ রাষ্ট্র কলা সাহিত্য শিল্প বাণিজ্য এইগুলিকে কি রূপ দিলে তারা মানব—সত্তার ক্রম—বিকাশের—পূর্ণ পরিণতির অনুকূল হবে, সেই পরীক্ষা নানা ভাবে ইতিহাসে যুগে যুগে চলেছে। য়ুরোপ তার স্বভাব ও স্বধর্ম্মানুযায়ী ভাবধারা নিয়ে নিজেরই মৌলিক ভঙ্গীতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভাঙে, গড়ে ও রূপ দেয়। তার সে স্বধর্ম্ম এসিয়ার নয়, তার স্বধর্ম্ম ও প্রতিভার পুণরাবৃত্তিমাত্রই যদি এসিয়ার স্বধর্ম্ম হতো তা’ হ’লে মহামানব কতখানি বৈচিত্র্য থেকে বঞ্চিত হতো, কত সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডার থেকে, জীবন নিয়ে ও সমাজ, রাষ্ট্র, কলা কৃষ্টি নিয়ে কত নূতন পরীক্ষাজাত অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ বঞ্চিত থাকতো। মানুষের একই জীবন ও তার এই একই উপকরণগুলি দেশে দেশে স্বতন্ত্র মৌলিকতার ও মনীষার রঙে রঞ্জিত হয়ে কত না বিচিত্র রূপ ধরেছে। এই বহু বিচিত্র পথেই তো মানুষ চলেছে পূর্ণতার পাথেয় সঞ্চয় করতে করতে। জীবনের এই বিচিত্র পরীক্ষাগারে যে জাতি পুরাতনে দাগা বুলায়, ভিন্ন দেশকে অনুকরণ মাত্র করে,সে শুধু বঞ্চিত নয়,সে সৃষ্টির দেবতার কাছে অপরাধী।
৬৫