ভারত কোন্ পথে?
পণ্ডিত জোয়াহির লাল চতুর পণ্ডিত ও বুদ্ধিমান মানুষ কিন্তু তাঁর দৌড় ঐ পুঁথিগত পাণ্ডিত্য অবধি। মুনি বা মন্ত্রদ্রষ্টার প্রজ্ঞা (intuition) বা ঋষিদৃষ্টি তাঁর নাই, জীবনের স্থূল মোটা ঘটনা নিয়ে তাঁর কাজ। জাতির জীবন-যাত্রায় নূতন পাথেয় যোগানো, নূতন সৃষ্টির মন্ত্র আবিষ্কার করা—জোয়াহির লালের মত নেতারা এবং তাঁদের পাশ্চাত্য গুরুরা সে কাজ করতে গিয়ে একটি বড় কথা ভুলে যান। মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঢেলে সাজতে অর্থনীতি একটা বড় তত্ত্ব সন্দেহ নাই, কিন্তু শুধু বহিরঙ্গ অর্থনীতিই সব নয়, মানুষের মানবত্ব-human factor—তার অন্তরজগৎটাও কম নয়। ওটাকে ভুললে হিসাব কিতাবে যে মস্ত একটা ভুল থেকে যাবে চিরদিনই জাতিকে সেই ভুলের জের কেটে চলতে হবে। আধুনিক ধনিকতন্ত্রে—বর্ত্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রে মানুষের দৈনিক অভাব অভিযোগ ক্ষুৎপিপাসা খুব বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ নাই; কিন্তু তাই দেখে যদি একথা কেউ অনুমান বা প্রতিপাদন করেন যে মানুষের গোটা জীবনটারই ভিত হচ্ছে টাকা আনা ও পয়সা, তা’ হলে মস্ত একটা ভুল করা হবে। পাশ্চাত্যের একদেশদর্শী পাণ্ডিত্য ও বৈজ্ঞানিক বস্তুতান্ত্রিক বুদ্ধি এই ভুল বার বার করে, যেমন ফ্রয়েড করেছেন। তাঁর মতে যৌন প্রেরণাই প্রাণের সবখানি, আর আধুনিক সাম্যবাদী কম্যুনিষ্ট নেতাদের মতে আমাদের অপূর্ব্ব ধর্ম্ম সমাজ কলা সাহিত্য সৃষ্টি সভ্যতা সবই উঠেছে টাকা আনা পয়সাকে মূল করে। প্রাণ সমুদ্রে শত শত ঢেউ উঠেছে,তার একটা হচ্ছে প্রেম, একটা করুণা, অন্যটা কাম, অপরটা লোভ, কিন্তু কামটাই গোটা প্রাণ নয়। জীবনেরও বহু উপকরণের একটা হচ্ছে অর্থ, অর্থ জীবনের সবটা নয়।
৬৬