বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

স্বর্গ ও মর্ত্ত্যের মাঝে আছে চেতনার যত স্তর সব ভিড় করে রয়েছে এই মানব-পেটিকার মধ্যে, তাই এই মানব ঘটের সম্ভাবনা বহুমুখী।

 রাশিয়ার একপেশো কম্যুনিজমের নো-গড্ বুলি কিছুতেই মানুষের এই দুর্ল্লভের দিকে টান—এই সূক্ষ্মের ক্ষুধা চেপে রাখতে পারবে না। মানুষের অপূর্ণ মতবাদের দম্ভ সাদাকে কখনও কালো করতে পারে না, ঘেঁটু গাছে কখন পদ্ম ফোটাতে পারে না। অন্ধ সংস্কারকের পাগল ইচ্ছার বশবর্ত্তী হয়ে এই বিচিত্র বহুমুখী জগতে কৃত্রিম সাম্য সৃষ্টি করতে গিয়ে রাশিয়ার প্রথম কম্যুনিষ্ট দল দেশের সুকুমার কলা সাহিত্য জ্ঞান সভ্যতা ভেঙে একটা প্রাণহীন নিয়ম-তান্ত্রিক সমতা এনেছিল, সকল বর্ণকে টেনে শূদ্রত্বের কর্দ্দমে নামিয়েছিল। আজ তার চক্ষু গজিয়েছে, রাশিয়া বুঝেছে শিক্ষার মূল্য, কলা সাহিত্যের কদর! এখনও তার পূর্ণ দৃষ্টি লাভ হয় নাই, এখনও সে বুঝে নাই, যে, যে সত্যকে সে ধর্ম্মবিপর্যয়ের নামে আজ দাবিরে রাখছে সেই পরম সত্য শত শিখায় জ্বলে এক দিন নবরূপে তাকে গ্রাস করবে।

 অন্ধ রাগ ও জিঘাংসা একটা জাতিকে তার শতাব্দির অজ্ঞান ও নৈরাশ্য থেকে তুলতে পারে না, একথা দেশের সন্ত্রাশবাদী তরুণদের বুঝতে হবে। যা’ দেশের ও জাতির আমূল সংস্কার আনতে পারে তা’ হচ্ছে গঠন-প্রমুখতা; তার জন্য তরুণ ভারতকে হতে হবে ময়দানবের বংশধর, কলাকুশলী, শিল্পকুশলী, কৃষিকুশলী,—গঠনের ত্বরিৎকর্ম্মা অনুপম শিল্পী। একেবারে ভিত থেকে তুলতে হবে নব ভারতকে গড়ে, মানুষের রক্তে সে সৌধ গড়ে উঠবে না, ক্রুদ্ধের বিকৃত মনে সে ছাঁচ সে নক্সা জাগবে না; সে নূতন কর্ম্ম-পদ্ধতি বা জীবন-মন্ত্র যারা আনবে তারা হবে স্থিতধী মানুষ; স্থির মনোবল, বিশাল হৃদয়

৬৮