বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কম্যুনিজম্ কোথায় ভুল করেছে

অসীম দরদ ও প্রেম-শক্তি দিয়ে যারা এসেছে মানুষের ভবিষ্যৎকে গড়বে তারাই হবে নব-ভারতের ও নবীন বাংলার কর্ম্মী।

 মানুষের জীবনের গভীরতর সত্যগুলিকে কি শুধু middle class phenomena—“শিক্ষিতের ও মধ্যবিত্তের শ্রেণীগত মনোবৃত্তি” বলে গালি দিলেই তারা মানুষের জীবন থেকে বাদ পড়ে যাবে? রুষের নব প্রগতির মুগ্ধ পূজারী জোয়াহির লাল অন্ততঃ তাই মনে করেন। তাঁর লেখা “Whither India”য় তিনি লিখেছেন, “—এবং অন্য দেশের মত এদেশেও প্রবল জাতীয়তার সঙ্গে আছে— আদর্শবাদ, অতীন্দ্রিয়ের পিপাসা, ভাবের আতিশয্য, দেশের জাতীয় ব্রতের সম্বন্ধে অন্ধ ধারণা, ধর্মোন্মাদের মতই একটা ব্যাপার। এ সবই হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনোভাব।” পণ্ডিত জোয়াহির লাল ম্যাজিকে অর্থাৎ ইন্দ্রজালে বিশ্বাস করেন না, তিনি সুস্পষ্ট লজিক বা যুক্তিতে রাখেন আস্থা, যে ভাব-প্রবণবতা বুদ্ধিকে করে আচ্ছন্ন তার কোন স্থানই জোয়াহির লালের যুক্তিবাদে নাই। সুস্পষ্ট বিশদ চিন্তা খুবই ভাল জিনিষ, যদি সে চিন্তা হয় সমগ্র, সুসমঞ্জস ও পূর্ণ; স্থূল ও একদেশদর্শী নয়, গোঁড়ামী-প্রসূত নয়।

 আমরা কি চাই, মানুষের জীবনের লক্ষ্য কি, তা’ আমরা কি করে বুঝবো? প্রথমে বুঝতে হবে, যে, মানুষের আছে দু’টী জগৎ—অন্তর জগৎ আর বহির্জগৎ, এই দুটিকে নিয়েই তার কারবার। সুতরাং তার চাওয়া তার সাধ আকাঙ্ক্ষাগুলিও দু’ রকমের, তারা রূপ নেয় ঐ অদৃশ্য অন্তর থেকে বাহিরের দিকে; তার শুধু দেহের অভাব অভিযোগ ক্ষুৎ পিপাসাই নাই, তার আছে মনের ও জ্ঞানের ক্ষুধা, তার আছে বুকের প্রেম, সহানুভূতির ও রসের ক্ষুধা, তাহার আরও আছে রূপ সুষমা শব্দ গন্ধের অর্থাৎ প্রাণের

৬৯