বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

ক্ষুধা, কত না বিচিত্র ক্ষুধা নিয়ে অন্তর জগৎ বাহিরকে ধরে তৃপ্তি খুঁজছে, চরিতার্থতা খুঁজছে। মানুষের শুধু বহির্জীবনের উপকরণ গুলিই যদি আমরা গুছিয়ে দিই অর্থাৎ তার সমাজ, তার অর্থনীতিক ব্যবস্থা, তার রাষ্ট্রচক্র মনের মত করে সাজিয়ে তুলি অথচ তার ঐ রসক্ষুধাতুর মনপ্রাণের অন্তর জগৎটা থাকে অসংস্কৃত এলোমেলো, তা’ হ’লে তার কল্যাণ বিষিয়ে উঠবে, তার ঐ অসুর-শাসিত ছন্দহারা অন্তর যে বাহিরকে দেবে ঘুলিয়ে। নিছক বাহিরের জীবনের যন্ত্র—অর্থাৎ সমাজ ও রাষ্ট্রের বহিরঙ্গ রূপ ও তাদের কাটা ছাঁটা ছক মানুষের প্রকৃতি থেকে তার লোভ, অহংকার স্বার্থান্বেষণ, তার হিংসা ক্রূরতা কাটিয়ে তাকে বড় করে দিতে পারে, এ ধারণা আংশিক সত্য হতে পারে, পূরা সত্য নয়। গৈরিক ছিল ত্যাগের চিহ্ন, সেই গৈরিক ধরে আজ দেশে হাজার হাজার ভণ্ড স্বার্থান্বেষী চোর লম্পট ঘুরছে। স্বাধীন প্রজাতন্ত্রের দেশেও আছে দস্যু তস্কর, তাই সেখানেও আছে পুলিশ পেয়াদা জেল ফাঁসীকাঠ। এত দেখেও মানুষের জড় মন বাহিরের আয়োজন ও ব্যবস্থাকেই বেশি বিশ্বাস করে। তারা কেবলি ভাবে মন্দ সমাজ ভাঙলেই ভাল সমাজ আপনি আসবে, যারা অত্যাচারী শাসককে উৎসন্ন করবে তারা বুঝি আর অত্যাচার করবে না। তাই বার বার বলছি বাহিরের উপকরণ আয়োজন সত্য কিন্তু অন্তরের ব্যাপার আরও সত্য, মানুষের অন্তর কল্যাণ ও অকল্যাণের আরো অমোঘতর উৎস।

 বিজ্ঞান জড়বাদের এত প্রমাণ বিপক্ষে দেওয়া সত্ত্বেও মানুষের জড়ধর্ম্মী মন জড়কে এখনও নিছক জড় বলেই ভাবে। স্থূল জড়কে বিশ্লেষণ করে করে আধুনিক বিজ্ঞান কিন্তু মানুষকে নিয়ে গেছে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর ভূতের মাঝে—অণুকণায়, কতকগুলি elemental শক্তির জগতে—যা’

৭০