বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভূমিকা।

 আজকাল বাংলা দেশের তরুণদের মন হালকা আমোদের রসিক হয়ে উঠেছে। হালকা মাসিক, রঙিন বায়স্কোপ, চুটকী রসিকতা, অগভীর সমালোচনা এই হয়েছে কচি ও কাঁচা মনের খোরাক। যে দেশের শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি, গোধন, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি সবই একেবারে গোড়া থেকে গড়ে তুলতে হবে, জাতি-গঠনের কাঁচা বনিয়াদও যাদের আজও রচনা করা হয় নাই, সে দেশের তরুণ মন এতখানি পল্লবগ্রাহী হলে জাতির ভবিষ্যৎ একেবারে অন্ধকার; কারণ তরুণ যুবশক্তিই জাতির ভবিষ্যৎ।

 না পড়ে ও চিন্তা না করে জ্ঞান, চেষ্টা না করে ফাঁকি দিয়ে যশ ও প্রতিষ্ঠা, উপর-চালাকীর উপর ব্যবসা, স্ত্রী ও পুত্রের ভার এড়িয়ে যৌন জীবন, এই হচ্ছে বর্ত্তমানের সফরী প্রকৃতির ছেলেদের ধারা। যাঁরা তরল আমোদ প্রমোদ এবং সত্তা বিলাসের স্রোতে ভেসে চলেছেন তাঁরাই বাংলা দেশে সংখ্যায় বেশি। দু'চার জন যাঁরা দেশের সম্বন্ধে সচেতন তাঁরাও গতানুগতিক পথের পথিক, কারণ নূতন পথের দিশারী ও কর্ম্মী হতে হলে চাই গভীর চিন্তা, প্রচুর সাধনা, বিপুল অধ্যবসায়। তাই আজকালকার দেশব্রতী হচ্ছেন হয় বোমা বা নন্-কৌ যুগের পুনরাবৃত্তি, আর নয় তো রুষের কম্যুনিজমের মাছি—মারা কেরাণী।

 আমার বদনাম আছে বিস্তর, আমি নাকি সরকারের খয়ের খাঁ, নিত্য নূতনের চঞ্চল পূজারী, ন্যাশনালিজমের শত্রু, লিডারদের স্তাবক ন‍ই এবং চরিত্রহীন বৃদ্ধ। এসব অপবাদ স্তুতি বলেই আমি গ্রহণ করতে রাজী, যদি আমার এতখানি চিন্তা দেশের ছেলে মেয়েরা