কম্যুনিজম্ কোথায় ভুল করেছে
শেষে ক্রমশঃ একটা মূল শক্তিতেই গিয়ে পর্য্যবসিত হবে। রাসায়নিক ও জীবতত্ত্বের পরীক্ষাগারে বসে মানুষ বহু বৎসরের সাধনায় জড়কে ধরে ক্রমশঃ শক্তির রাজ্যে পৌঁছেছে; তার পরই আসবে চৈতন্যের জগৎ। ঠিক যেমন জড় নিজেকে শক্তিতে হারিয়ে ফেলেছে, শক্তিও তেমনি চৈতন্যে গিয়ে একদিন রূপান্তরিত হবে। বিজ্ঞান পরীক্ষা করে দেখেছে, যে, জড়ের একটা কণার মধ্যে নিহিত আছে এমন লীন শক্তি—kinetic energy যা’ জাগলে আমাদের জগতের মত বহু সৌর জগৎ চূর্ণ করে দিতে পারে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে একটা কিছু আদি পদার্থই আছে (দুইটা নাই—‘একং সৎ’) যার এক দিক জড় ও অন্য দিক চৈতন্য বা শক্তি।
পণ্ডিত জহরলালের ইটন্ ও হ্যারো শিক্ষিত সাহেবী মন “ম্যাজিক” বলে উড়িয়ে দিতে চায় যা কিছু পরমার্থ বস্তু বলে আমরা জানি তা’সবই; আত্মবস্তুকে তাঁর জড়বাদী মন না মানতে পারে, তা’ নিয়ে স্থূল রসিকতা করতে পারে, কিন্তু তথাকথিত এই অনাত্ম বা জড় থেকে যে এত রূপ, এত রস, এত বর্ণ, এত গন্ধ, এত অপুর্ব্ব ভাব ও কষ্টি জন্মাচ্ছে এটা কি কম ম্যাজিক? এই অপূর্ব্ব সৃষ্টি ধারা আসছে কারণ থেকে সূক্ষ্মে, সূক্ষ্ম থেকে স্থূলে, এটা যে জড়বিজ্ঞানেরই অবিসম্বাদিত সত্য। সুতরাং পাশ্চাত্যের জড়বাদও প্রাচ্যের আত্মবস্তুতেই এসে ক্রমশঃ দাঁড়াচ্ছে। রাশিয়ার সাম্যবাদের জন্ম আমাদের এত দিনের ঐ পুরাতন কৃষ্টি ও সভ্যতারই কোলে, ওটা আকস্মিক একটা কিছু নয়; কারণ মানুষ চলেছে সত্য থেকে পূর্ণতর ও ব্যাপকতর সত্যে; আজ পূর্ণতর সত্য এসেছে বলে কালিকার অপূর্ণতর সত্যটা ভুল ছিল, গত কাল তার কোন অবদানই মানব সভ্যতায় ছিল না একথা বাতুলের প্রলাপ মাত্র, পল্লবগ্রাহিতার পরিচায়ক। জগতের শূদ্রকে অস্পৃশ্যকে
৭১