ভারত কোন্ পথে?
অনুন্নতকে তুলতে হবে ব্রাহ্মণের তপস্যায়, ক্ষত্রিয়ের দৈবী শৌর্য্যো, বৈশ্যের কলাকুশলতায় তার পরিবর্ত্তে আমাদের শূদ্রের অজ্ঞানে অসংস্কৃতিতে নেমে গেলে চলবে না। অথচ রুষ কমিউনিজমের গোড়ার চেষ্টা ছিল একটা কালাপাহাড়ী এলোপাতাড়ী ভাঙন, সব বৈচিত্র্য মাঠসই করে একটা প্রাণহীন সমতায় সকলকে নিয়ে আসা। অথচ বৈষম্য বা বৈচিত্র্যই হচ্ছে সৃষ্টি, সমতা হচ্ছে প্রলয়—মহতি বিনষ্টি।
রাশিয়ার কম্যুনিজমের অন্তর্নিহিত সত্য হচ্ছে জড়বাদের নয়, একেবারে পরমার্থের সত্য; যে সমতা বা বৈষম্যহীনতা সে চায় তা’ হচ্ছে আত্মার ধর্ম্ম, জড়ের নয়। সৃষ্টির সূক্ষ্মের দিকটা একতার দিক, অখগুত্বের দিক; সৃষ্টির স্থূলের দিকটাই কিন্তু বৈষম্যের দিক, তাই সেখানে এত সমৃদ্ধি, এত প্রাচুর্য্য, এত রং, এত বিপুলতা। রাশিয়ার কম্যুনিজয়ম্ যে নিরীশ্বরবাদকে ধরেছে সেটা প্রতিক্রিয়া হিসেবে, অপধর্ম্মের নাশের জন্য। ধর্ম্মের নামে মানুষ জগতে যত খুনখারাপী অনাচার উৎপীড়ন করেছে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার জন্য যুগদেবতার মুখে আজ এই নিরীশ্বরবাদের মুখোস। পাশ্চাত্যের ভারতীয় শিষ্যদের কিন্তু পল্লবগ্রাহী বুদ্ধি ব্যাপারটাকে এত তলিয়ে দেখে না, তারা জানে ‘ধরো আর মারো’; তারা বোঝে দুই চক্ষু মুদে দুই হাতে লগুড় চালানো। যে আদর্শবাদকে—যে ভাব-প্রবণতা ও জাতীয়তার উচ্ছ্বাসকে পণ্ডিত নেহেরু middle class phenomena মধ্যবিত্তের মনোবৃত্তি বলে উপহাস করেছেন, রাশিয়ার কম্যুনিজমে তার অভাব নাই, বরঞ্চ আতিশয্যই আছে। জাতীয়তা নিজের দেশের জাগরণ নিয়েই সন্তুষ্ট, পরের আটচালায় সে আগুন লাগাতে যায় না। রাশিয়ার এই শূদ্রোখান আন্দোলনে কিন্তু বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধা আছে; বিপ্লবের আগুনে সে বিশ্ব সংসার ছারখার করবেই, তা বিপ্লব
৭২