কম্যুনিজম্ কোথায় ভুল করেছে
আবশ্যক হোক আর নাই হোক। যেহেতু রাশিয়ায় ধনিক-বধ যজ্ঞ দরকার হয়েছে সুতরাং ওটা একটা অত্যাবশ্যকীয় ব্যাপার। আগুনের মশাল হাতে জগদুদ্ধারের ব্রত ও mission নিয়ে অন্ধ ভাবোচ্ছ্বাসপাগল বিদ্রোহের পঙ্গপাল বাহির হয়েছে জগত গ্রাসের লালসায়। পণ্ডিতজীর তিরস্কৃত ঐ মধ্যবিত্তের মনোবৃত্তি বা middle class phenomena এর চেয়ে শত গুণে ভদ্রলোক।
অতীতের কোলে—তারই আদর্শ ও কৃষ্টির রসে পুষ্ট হয়ে আরও ব্যাপকতর মহত্তর আদর্শবাদ যা জন্মাচ্ছে তা অতীতের দিকে এমন নির্ম্মম হয় কেন? উদ্ধত সঙ্কীর্ণমনা একদেশদর্শী মানুষের হাতে জগৎকল্যাণের কাজ পড়লে সে ব্রতের এই দুর্দ্দশাই হয়। কম্যুনিজমের আদর্শবাদী যারা তাদের মধ্যে সবাই গভীর চিন্তাশীল মানুষ নয়, পল্লবগ্রাহী অসহিষ্ণুর দলই বেশি, তারা ধ্বংসের নেশায় পাগল হয়ে গঠনের কথা ভুলে যায়। পল্লীর দৈন্য ও নোংরা জীবনে যা’ নাই তাকে তারা মধ্যবিত্ত, বুর্জোয়া ইত্যাদি নামে গালি দেয়। ধনিকতন্ত্রকে উচ্ছেদ করতে এসে তারা ঘৃণা করতে শেখে ধনিক সমাজের গড়া কলা সাহিত্য কৃষ্টির মত মহৎ বস্তুকেও। অপধর্ম্মের exploitation দূর করতে গিয়ে তারা দাবিয়ে নষ্ট করে দিতে চায় মানুষের প্রকৃতির সহজ অনাবিল ঊর্দ্ধগামী প্রাণ ও ভাব-ধারাকে, সকল পেলব সুক্ষানুভূতিকে। এত বড় শিক্ষিত ব্যক্তি হয়েও পণ্ডিত জোয়াহির লাল এই অসহিষ্ণু পল্লবগ্রাহিতার বুলি আওড়ান তার অর্থ এই, যে, তাঁর পাণ্ডিত্য পুঁথিগত ও স্থূল, সুক্ষানুভূতি বর্জ্জিত; মৌলিক মনীষার খেলা তাতে নাই। তিনি কর্ম্মী, ঋষি বা মন্ত্রবেত্তা তিনি নন।
৭৩