ভারত কোন্ পথে?
তার উৎসের দিকে আর তার লক্ষ্য ও গন্তব্য ঐ সাগরের দিকে খোলা কিন্তু তা’ ছাড়া বাকি দুই দিকে উঁচু পাড় দিয়ে বাঁধা, তবেই সে নদী হয় খরস্রোতা। দু’ধারের পাড় ভেঙে সমভূমি করে দিলে নদী যায় ছড়িয়ে নিজেই নিশ্চিহ্ন হয়ে শুকিয়ে, অথবা দেয় প্লাবনে প্লাবনে পাশের গ্রাম নগর ভাসিয়ে। স্বাধীনতাও তেমনি, কতখানি চাপ ও বন্ধন মানুষের সইবে এবং কল্যাণ হবে, ততটুকু বন্ধন যে কোন গণতন্ত্রে বা শ্রেষ্ঠ শাসনতন্ত্রে থাকবেই। মানুষকে—অজ্ঞ ও কুসংস্কারান্ধকে কতকটা বুঝিয়ে কতকটা বাধ্য করে ক্রমশঃ নিয়ে যেতে হবে তার পূর্ণ কল্যাণের দিকে। জোয়াহির লালজী নিজেই স্বীকার করেছেন, “জাতির মাঝে সহযোগিতার সামর্থ্য ও সজাগ ইচ্ছাশক্তি চাই এবং সে ইচ্ছাশক্তি হবে নিজের কল্যাণের সম্বন্ধে সচেতন। আধুনিক জীবন এত জটিল হয়ে উঠেছে, জাতিতে জাতিতে এসেছে এমন আদান প্রদান ও পরস্পর নির্ভরের নিবিড় ঘনিষ্ট সম্বন্ধ, যে, সহযোগিতা বিনা কাহারও এক পা চলা সম্ভব নয়।” সুতরাং আদর্শ-ই এখন যথেষ্ট নয়, সেই আদর্শ প্রয়োগের সময় সহযোগিতার স্বাধীন ইচ্ছাকে ব্যাহত করলে আদর্শটিই ব্যর্থ হয়ে যাবে। যে কোন আদর্শ জীবনে রূপ নেয় নিয়মানুবর্তিতার পথে, স্বেচ্ছাচারে নয়; স্বেচ্ছাচার বা স্বৈরাচার মুক্তি নয়, উদ্দাম প্রবৃত্তির কাছে দাসত্বের নামান্তর মাত্র। মানুষ যত উন্নত হয়, মুক্ত হয়, ততই বন্ধন মেনে চলে, ততই তার পদক্ষেপ হয়ে আসে অন্য বহু প্রতিবেশী জাতির সহিত সমতালে অনুগামী, তাদের সকলের কল্যাণের ছন্দে বাঁধা।
আমার মনে হয়, পণ্ডিত জোয়াহির লাল জাতির ব্যাধির সন্ধান ও পরিচয় ঠিকই দিয়েছেন, দিতে পারেন নাই ঠিক ঔষধ ও পথ্যের ব্যবস্থা। মার্ক্সের অর্থনীতিক আদর্শবাদের ছাপ জোয়াহির
৭৬