Whither Indiaর উত্তর
লালজীর মস্তিস্কে এত দুরপনেয় হয়ে পড়েছে, যে, তাঁর পক্ষে মানব জীবনের একটি পূর্ণ ছবি মানস চক্ষে ফুটিয়ে তোলা কঠিন হয়েছে। এই বিচিত্র মনপ্রাণ দেহাত্মক মানুষের জীবন বহুমুখী, শুধু টাকা আনা পাইয়ে তার সবটুকুর মূল নয়। “প্রাচ্য” এই কথাটির কোন অর্থ-ই জোয়াহির লাল বোঝেন না, কারণ “প্রাচ্য” জাতি বলতে আরবের বেদুইন, ভারতের হিন্দু, সাইবিরিয়ার মালভূমির যাযাবররা, মঙ্গোলিয়ার বন্য কৃষিজীবীরা, ঈশ্বরে অবিশ্বাসী নিছক নীতিবাদী কনফিউশিয় চীনারা—এ সকলকেই বুঝায়। এত বৈচিত্র্য যেখানে সেখানে প্রাচ্য প্রাণধারা বা প্রাচ্য সভ্যতা বলতে সুতরাং কিছুই নাই, প্রাচ্য যে অধ্যাত্মবাদী spiritual, এরও সুতরাং কোন অর্থ-ই নাই। তাঁর মতে এসিয়া বা প্রাচ্যের এত বৈচিত্র্যের মূল বা হেতু শুধুই অর্থনীতিক, ঐ কাল্পনিক পরমার্থটা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদীদের ছলাকলা —যার সাহায্যে তারা আপামর সাধারণকে কঠিন নিগড়ে বেঁধে রাখতে সমর্থ হয়েছে। কৃষ্টিগত ও জাতীয় পার্থক্য তিনি তবু মানেন, কিন্তু সেই পরমার্থের স্বর্ণসূত্রটি আদৌ মানেন না যা গোটা প্রাচ্যকে করেছে এক গোষ্ঠীর সহোদর ও আপন জন। অথচ তিনি অধ্যাত্মবাদী পরম নৈতিক মহাত্মাজীর ভক্ত শিষ্য, কোথা থেকে যে মহাত্মাজীর এতখানি প্রভাব তাঁর ওপর ক্রিয়া করে এ অনুভূতি জোয়াহির লালজীর নাই।
মুস্কিল হয়েছে তাঁর চোখে মানুষের উদরটা হয়ে উঠেছে বিপুল আকার, জাতির জীবনের যত আলোড়ন বিলোড়ন, যত বাত্যা ঝঞ্ঝা ভূমিকম্প সবই হচ্ছে ঔদরিক ব্যাপার। মানুষ বেঁচে আছে নিছক উদরের জোরে, পেটে হেঁটে চলেছে গুটি গুটি মস্কোমার্কা পূর্ণ কল্যাণের এক অভিনব স্বর্গের দিকে। আর যাই ঘটুক, একথা ঠিক, যে, তাঁর ধারণায় পুরাতন গেছে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে মুছে, যে কোন রাজচক্রবর্ত্তীর তুরুক সওয়ার
৭৭