বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

ঘোরাচ্ছে না, বেচারা ধনিক, সাম্রাজ্যবাদী, রাজরাজড়া ও মধ্যবিত্তদেরও সমান বেগে টেনে নিয়ে চলেছে। কাল-পুরুষ যে লেনিন ও কার্ল মার্ক্সের চেয়ে বহুগুণে শক্তিমান এবং অভ্রান্তদৃষ্টি; তার অপ্রতিহত গতি-মুখে কাল-পুরুষ এঁদের সব যন্ত্র বা অস্ত্ররূপে ব্যবহার করে তার কাজ হাসিল করে নেয়, এবং সে অস্ত্র ভোঁতা বা অকেজো হয়ে গেলে টেনে পথের পাশে আবর্জ্জনা স্তুপে ফেলে দেয়; কাল দেবতার অস্ত্রাগার অক্ষয় অফুরন্ত, নূতন তীক্ষ্ণধার অস্ত্রের সেখানে কখনও অভাব ঘটে না। পণ্ডিত জোয়াহির লাল নিজেই বলেছেন, “যখন জীবনের শোভাযাত্রা মহাসমারোহে চলে তখন তার মাঝে বিরাট মহাপুরুষদেরও ক্ষুদ্র দেখায়, সে জয়যাত্রার তুলনায় তাঁহাদের মহত্ত্ব কতটুকু?” আমার মনে হয় জীবনের এই জয়যাত্রার কখন বিরাম ঘটে নাই, এ শোভাযাত্রা চলেছেই, মস্কোর আজকার কৃত্রিম সাম্যের বাণী ছাপিয়ে এক দিন বৃহত্তর সামঞ্জস্যের বাণীও উঠবে সেই জয়যাত্রার শঙ্খনাদে।

 পণ্ডিতজীর “ভারত কোন পথে?” প্রবন্ধটি তিনি একটি অত্যন্ত মধ্যবিত্ত মনোবৃত্তি-সুলভ ভাব দিয়ে শেষ করেছেন। মনিষী বার্ণাড শ’র কথা উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, যে, সুদূর হলেও দুষ্প্রাপ্য হ’লেও মহৎ এক আদর্শের স্বপ্নে বড় বিমল আনন্দ ও আত্মপ্রসাদ আছে। বার্নাড শ’ লিখেছেন, “তোমার প্রাণ যাকে মহান বলে স্বীকার করে নিয়েছে সেই ব্রতে নিজেকে ঢেলে দিয়ে নিঃশেষ করে ফেলার চেয়ে আনন্দ আর জগতে কি আছে? ‘সংসার আমাকে সুখ সম্মান দিল না’ এই ক্ষোভে দুঃখে জ্বরজ্বর স্বার্থের কীট হওয়ার চেয়ে যে কোন মহযজ্ঞের হবিঃ রূপে ভস্ম হয়ে যাওয়া সহস্র গুণে শ্রেয়।” প্রবন্ধের গোড়ায় পণ্ডিতজী যাকে মধ্যবিত্তের মনোবৃত্তি বলে উপহাস করেছেন, এও তো সেই

৮০