বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৯০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সোভিয়েটতন্দ্র কি বিশ্বব্যাপী গণ-আন্দোলন?

আদর্শালুতা, সেই রহস্যের পিছনে অজ্ঞেয়ের পিছনে ছোটার আনন্দ ও ভাবোচ্ছ্বাস ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁর কাঁচা নতুন শেখা অর্থনীতিক বাতিকের পরদা ভেদ করে জোয়াহির লালজীর প্রাচ্যের প্রাণ মাঝে মাঝে আত্মপ্রকাশ না করে পারে না। তিনি বার্ণাড শ’র যে বাণী উদ্ধৃত করেছেন তা’ তাঁর এত সাধের নিছক টাকা আনা পয়সার মুক্তি ও শিশ্নোদরের তত্ত্বের ইমারৎ যে ভূমিশায়ী করে দিল সে কথা পণ্ডিতজীর বোধগম্য হয় নাই। বার্নাড শ’ গীতার নিষ্কাম ফলাকাঙ্ক্ষাহীন কর্ম্মের আনন্দই ব্যাখা করেছেন। সমাজ তাদের প্রাপ্য সুখ ও অন্নবস্ত্র দিল না —দলিত ও অবহেলিতের এই ক্ষোভ ও বেদনাকে রক্তমুখী ক্রোধবহ্নিতে জাগিয়ে তুল্‌লে কি জগতে এক মহা পুণ্য ব্রত উদ্‌যাপনের সেই আনন্দ লাভ হবে, না, নররক্তক্লিন্ন নরক আত্মপ্রকাশ করবে?

সোভিয়েটতন্দ্র কি বিশ্বব্যাপী গণ-আন্দোলন?

 ধনে কোন দোষ সংস্পর্শ নাই, মূলধন মানুষের পক্ষে এক অবিমিশ্র আশীর্ব্বাদ স্বরূপ। ধন তখনই অনিষ্ট করে যখন আমি তার অপব্যবহার করি, তাকে আমার প্রতিবাসীর অনিষ্ট সাধনে নিয়োগ করি। শ্রীরামকৃষ্ণ প্রমুখ ত্যাগপন্থী সাধকরা যেমন এক হিসাবে কামকাঞ্চন ত্যাগ করতে উপদেশ দিয়েছেন, শঙ্করাদি মায়াবাদীরা যেমন ধনকে সকল অনর্থের মূল বলেছেন, স্থূলদর্শী তরুণ কম্যুনিষ্টরা তেমনি ধন ও ধনিককে অন্য হিসাবে ঘৃণার চক্ষে দেখেছিলেন। অথচ ধনে কোন দোষ বা পাপ নাই, পাপ আছে আমাদের প্রাণে—ধনের জন্য দুরন্ত লোভে। এই অর্থগৃধ্নূ তাই প্রকৃত money-fiend বা ধন-যক্ষ।

 বর্ত্তমান সমাজের যত অশান্তি বিদ্রোহের মূল কারণ মানুষের দৈন্য ও ক্ষুধা সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। কিন্তু একথা বললে ভুল বলা হবে, যে, এত

৮১