বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

যুগ পরে আজ মূক গণশক্তি জেগে সচেতন হয়ে আত্মোদ্ধার ও আত্মোন্নতির পথে পা বাড়িয়েছে। মূক গণশক্তি সর্ব্বত্রই সমান মূকই আছে, তাদের মধ্যে যেটুকু সাড়া বা জাগরণ দেখা যাচ্ছে তা’ হচ্ছে পণ্ডিত জোয়াহির লালজীর মত শিক্ষিত মধ্যবিত্তের তাড়নায় ও প্রেরণায়। কার্ল মার্ক্স বা লেনিন এবং তাঁদের অধিকাংশ অনুচরেরা বঞ্চিত শিক্ষিতেরই দল, এঁরাই যুগে যুগে দেশে দেশে মানব সমাজের শ্রেষ্ঠ ফলরূপে সকল আদর্শবাদের জন্মদাতা। এঁরা যখন জীবনের ভোগোপকরণে ও নিজ নিজ উন্নতির অবসরে বঞ্চিত হন, দৈন্যগ্রস্ত হন, তখনই জাগে নূতন সৃষ্টির মন্ত্র, সেই মন্ত্র মূক গণশক্তিকে কথঞ্চিৎ সচেতন করে নিয়ে তাদের সাহায্যে করে উন্নতির জয়যাত্রার নব পর্য্যায়ের সূচনা। গণশক্তি বাহন, এঁরাই অধিরূঢ় দেবতা।

 গণশক্তি বৈদিক যুগ থেকে আজ অবধি সমান অবহেলিত হয়ে রয়েছে, শিক্ষিতের ও উচ্চবর্ণের সমান দাসত্বে লিপ্ত আছে। ইলোরা, বাঘ ও অজন্তার গুহায় উৎকীর্ণ প্রাচীর-চিত্রে দেখা যায় এদের ঝুঁটিবাধা ভীত সন্ত্রস্ত যুক্তপাণি রূপ। ধনগর্ব্বিত অভিজাত শিক্ষিতের দলই রামায়ণ ও মহাভারতের বীরদল, যাঁরা তাঁদের অশ্বমেধে ও কুরুক্ষেত্রে দলিত উপেক্ষিত গণশক্তিকে ইন্ধন রূপেই ব্যবহার করেছেন, তাদের কিঞ্চিৎ দয়া দাক্ষিণ্য করা ছাড়া মানুষের পূর্ণ অধিকার কখনও দেন নাই।

 মূক ও বঞ্চিতের বেদনা ঐ ধনীর ও অভিজাতের স্বর্ণলঙ্কা অধিকার করবার স্পর্দ্ধা কখনও করে নাই, সে দৈন্য ও বেদনা নালী ঘায়ের মত সমাজ-শরীরে চির দিনই তলে তলে বিষপূঁজ উৎপাদন করে চলেছে। বর্ত্তমান যুগের বণিক-সভ্যতার তীব্র প্রতিযোগিতা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ক্ষুধিতের পালকে সহরে সহরে জমা করেছে বলেই এ দৈন্য এত সুস্পষ্ট ও প্রকট হয়ে উঠেছে, সারা শরীরে যা’ চারিয়ে সংগোপনে ছিল সেই দূষিত

৮২