বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

সমাজ ও রাষ্ট্রের মনকে নূতন ছাঁচে ঢালতে হবে, সত্যের ও ভাবের অসিতে কাটতে হবে অসত্য ও কপটতার ঝুটা সভ্যতাকে। নরমেধ যজ্ঞে সে কল্যাণ আসবে না, অসুরে কখনও এ জগতে বৈকুণ্ঠ রচনা করে নাই, করবে না। ভারত চিরদিনই তপোভূমি, ইউরোপ হচ্ছে কর্ম্মভূমি; এই উদার ব্রহ্মবিদ্যার দেশেই বপন করতে হবে সত্যকার অহিংসার ও মানবপ্রেমের বীজ, এইখানে জীবনে সেধে দেখাতে হবে দৈবী শৌর্য্যের পরাক্রম, সংহতি ও সহযোগিতার অপূর্ব্ব সামর্থ্য ও সাফল্য। হিংসা ও হত্যাকে যদি সংঘবদ্ধ করে মানুষ এতখানি করতে পারে, তা’ হলে সংঘবদ্ধ প্রেমে ও ঐক্যে আরও কতখানি হয়? মানুষের ভাগ্য নিয়ে অসুর করেছে খেলা, এখন দেবতার আসছে পালা, ভারতের মুক্তি-অভিযানে সেই ধর্ম্মরাজ্যকে তুলতে হবে গড়ে।

 শুধু সাম্য বা শুধু বৈষম্যই মানুষের জীবনের ভিত হতে পারে না; তার প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে সামঞ্জস্য,— সুছন্দ ও সুসমঞ্জস প্রকাশ। সত্যকার সাম্য হচ্ছে অন্তর্নিহিত সূত্র, যা’ জীবনের সকল বৈচিত্র্য ও বৈষম্যকে “সূত্রে মণিগণাইব” গেঁথে তুলেছে। বৈষম্যই সৃষ্টির প্রাচুর্য্য—তার অনিবার্য্য ধর্ম্ম, কিন্তু সাম্যের ও ঐক্যের কোলে তার প্রকৃত সমন্বয়। সকল খণ্ড স্বার্থগুলিকে এক ব্যাপক পরার্থে, দেশার্থে, জাতীয় কল্যাণে মিলিয়ে নিতে হবে, যাতে সকল বর্ণ সকল শ্রেণী সকল পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্য পায় বিকাশের ও চরিতার্থতার সমান অবসর। দেশের, গভর্ণমেণ্টের ও কংগ্রেসের নেতাদের সামনে রয়েছে এই কঠিন ব্রত। এতগুলি বিরোধী স্বার্থকে একস্বার্থে মিলিত করা—এক লক্ষ্যে সিসৃক্ষু করা শক্ত কাজ, একথা বলে লাভ নাই। কোনও মহৎ ও পুণ্য ব্রতই সহজ নয়, সুখসাধ্য নয়। আমার বিশ্বাস ভারতকে নরহত্যা, রক্তপাত বা সঙ্ঘবদ্ধ নরমেধের জন্য গঠিত ও প্রস্তুত করার চেয়ে এই পুণ্য চেষ্টায় উদ্বুদ্ধ ও গঠিত করা ঢের সহজ; কারণ

৮৪