বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

প্রেমশক্তিকে অকপট অবিমিশ্র রাখা এবং জীবনের কাজে— সমাজে ও রাজনীতিতে কার্য্যকরী করা সহজ নয়, আজ পর্য্যন্ত মানব-সমাজ এই সব পরমার্থ সত্যকে পুঁথিগত, নীতিগত ও ধ্যানগত করে রেখেছে, তাই মুখে আমাদের সদাই এই সব উচ্চ বাণী অথচ জীবন চলে অধোগামী হয়ে। ব্যক্তির জীবনে কোথায়ও কোথায়ও ধর্ম্মের সত্যগুলি- কিঞ্চিৎ কার্য্যকরী হলেও জাতির জীবনে এপর্য্যন্ত রাগ দ্বেষ স্বার্থ ও কামের কৃষ্ণশক্তিই প্রধানতঃ জয়লাভ করেছে। মহাত্মাজী এই সব অপূর্ব্ব সত্য—অনুপম শুভ্রভেজের নাম মাত্র নিয়ে খেলা করেছেন, এদের সঙ্গে কোন সাক্ষাৎ পরিচয়ই তাঁর নাই। অহিংসা, মৈত্রী, করুণা, প্রেম ফাঁকানীতি বাক্য নয়, যে, তাদের নিয়ে বক্তৃতামঞ্চ থেকে ফেনিয়ে ফেনিয়ে মানুষকে পরিবেশন করলেই সে সব ধ্যানগম্য ও সাধনগম্য শক্তি জীবনে কার্য্যকরী হবে।

 তাঁর নীতিমূলক ঐ মানস অহিংসাও তিনি সেই দিন কার্য্যতঃ ত্যাগ করেছেন যে দিন তিনি পিছিয়ে গেলেন এই বলে, যে, সন্ত্রাসবাদীদের উপর তাঁর কোন প্রভাবই নাই। ব্রিটিশ রাজের এত বড় সশস্ত্র সুশৃঙ্খল শক্তির সম্মুখীন হ’তে যে অহিংস সত্যাগ্রহী ইতস্ততঃ করে নাই তার মুখে একথা খাটে না। মানুষের স্বার্থপর দুর্ব্বল মন যে পরমার্থ সত্যকে নিয়ে ও বড় বড় আদর্শকে নিয়ে কি লুকোচুরী খেলে এই তার প্রমাণ। প্রকৃত সত্যের যে সন্ধানী, অহিংসার যে সাধক, সে চিরদিনই সর্ব্ব অবস্থায়ই তাই। মহাত্মাজীর প্রচারিত অহিংসা শুধু পরমার্থ সত্য নয়, তিনি জাতীয় জীবনের মন্ত্ররূপে তা’ দিয়েছেন, বহু দিন পর মানুষের ইতিহাসে এই প্রথম ব্যাপক গোষ্ঠীগত জীবনের গতিতে তাকে কার্য্যকরী করবার সংকল্প করেছেন; সুতরাং জাতির সকল কার্য্যে, আপন পর সকলের

৮৮