বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত পথিক - সুভাষচন্দ্র বসু (১৯৫০).pdf/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রকৃতি দ্বারা সীমাবদ্ধ। তাই বেকনের ‘আইডোলা’ বা কাণ্টের ‘ফর্মস্ অফ দি আণ্ডারস্ট্যাণ্ডিং’এর মতো কোনো না কোনো চশমার ভিতর দিয়েই আমরা জগৎসংসারকে দেখি। হিন্দু পণ্ডিতেরা হয়তো বলবেন যে জ্ঞাতা ও জ্ঞেয়ের বিভক্ততা যতদিন বর্তমান থাকবে ততদিন জ্ঞানের অবিশ‍ুদ্ধতাও অনিবার্য। বিশ‍ুদ্ধ জ্ঞান লাভ হয় তখনি যখন জ্ঞাতা ও জ্ঞেয় এক চেতনার মধ্যে মিলিত হন। এই মিলন সাধারণ চেতনার ভূমিতে, মানষের মনের ঠিকানায় ঘটা সম্ভব নয়। কেবল মনকে পেরিয়ে মহাচেতনার মধ্যেই তার উপস্থিতি। এই পরা মনের, পরা চেতনার ধারণা হিন্দু দর্শনের এক বৈশিষ্ট্য, পাশ্চাত্যে এর স্বীকৃতি মেলেনি। হিন্দমতে বিশুদ্ধ জ্ঞান পাওয়া যায় যোগের মধ্য দিয়ে পরা চেতনার স্তরে আরোহণ করে অর্থাৎ প্রত্যক্ষ জ্ঞানের মধ্য দিয়ে। অঁরি বর্গ‍্সেঁ-র কাল থেকে য়ুরোপীয় দর্শনেও এই প্রত্যক্ষ জ্ঞানের ধারণা প্রবেশ করেছে, যদিও অনেক মহলে তার প্রতি উপহাস প্রায়ই বর্ষিত হয়। কিন্তু পরামানসিক যৌগিক জ্ঞানকে মেনে নেওয়া য়ুরোপের এখনো বাকি।

যদি তর্কের খাতিরে মেনে নিই যে পরমাত্মাকে যৌগিক জ্ঞানের মধ্য দিয়েই জানা সম্ভব, তবু তার বর্ণনার দুরুহতাটা থেকে যায়। তা যখন করি তখন সাধারণ চেতনার স্তরেই ফিরে আসতে হয়, সাধারণ মনের সমস্ত সীমা আমাকে ঘিরে ধরে। তাই পরমাত্মার বর্ণনামাত্রই হয়ে ওঠে মানুষের প্রতিমূর্তি। মানুষের নিজ মূর্তির ছায়া যে ধারণার উপর পড়েছে তাকে কোনো মতেই বিশুদ্ধ জ্ঞান বলা চলে না। যৌগিক বোধের মধ্য দিয়ে কি পরমাত্মাকে জানা সম্ভব? পরা মনের এমন এক স্তরে কি পৌঁছানো সম্ভব যেখানে জ্ঞাতা ও জ্ঞেয় এক হয়ে মিলে যাবে? এ বিষয়ে আমার মনোভাব হচ্ছে এক রকমের সহৃদয়

১৫১