বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত পথিক - সুভাষচন্দ্র বসু (১৯৫০).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান ছেলেদের সঙ্গে ভারতীয় ছেলেদের প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হত—যার পরিসমাপ্তি ঘটত বক্সিং-এ। এইসব বক্সিং-প্রতিযোগিতায় ভারতীয় এবং অভারতীয়দের পরিষ্কার দুটো দল খাড়া হয়ে যেত। উচ্চপদস্থ একজন ভারতীয় অফিসারের এক ছেলে আমাদের সহপাঠী ছিল—সে প্রায়ই ভারতীয় এবং য়ুরোপীয় ছেলেদের মধ্যে ম্যাচখেলার আয়োজন করত—খেলোয়াড়মাত্রেই এইসব প্রতিযোগিতায় যোগ দিত। মনে পড়ে নিজেদের মধ্যে আমরা প্রায়ই বলাবলি করতাম, বাইবেল আর পড়ব না, আর নিজেদের ধর্ম ও কিছুতেই ছাড়বো না। এই সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পাঠ্যতালিকা চালু হল। এই তালিকা অনুযায়ী প্রবেশিকা, ইণ্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রী পরীক্ষায় বাঙলা অবশ্যপাঠ্য বলে নির্দিষ্ট হল। এ ছাড়া প্রবেশিকা পাঠ্যতালিকায় আরো অনেকগুলি পরিবর্তন করা হয়েছিল। আমরা দেখলাম পি. ই. স্কুলের পাঠ্যতালিকা ভারতীয় ছেলেদের মোটেই উপযোগী নয়, কারণ প্রবেশিকা পরীক্ষা দেবার জন্য কোনো দেশী স্কুলে ভরতি হলে আমাদের একেবারে গোড়ার থেকে বাঙলা ও সংস্কৃত শিখতে হবে। আমার দাদারা সকলেই প্রবেশিকা, ইণ্টারমিডিয়েট, ডিগ্রী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল—এবং তারা যে জগতে চলাফেরা করত তার গল্প শুনে আমার মনও বিচলিত হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু তাই বলে স্কুল সম্বন্ধে কখনো আমার মনে বিরুদ্ধ ভাব জাগেনি। ১৯০২ থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত সাত বছর আমি এই স্কুলে কাটিয়েছি কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আমি কোনো কারণে অসুখী হইনি। যেসব অসংগতির কথা উল্লেখ করেছি সেসব আমরা বিশেষ গায়ে মাখতাম না, ফলে আমাদের স্কুলজীবনের স্বচ্ছন্দ ধারা কখনো ক্ষুন্ন হয়নি। শুধু শেষের দিকে একটা প্রচ্ছন্ন বিদ্রোহের ভাব মনে মনে

৩০